প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
একাত্তরের গণহত্যা ও চব্বিশের গণহত্যাকারীদের চরিত্রগত দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সংঘটিত হলেও এই দুই গণহত্যার নেপথ্যে থাকা শক্তিগুলোর মানসিকতা, রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং দেশবিরোধী অবস্থান অভিন্ন। তাই এসব শক্তির ব্যাপারে জাতিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্র পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মহান বিজয় দিবস ও জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা আজও নানা ষড়যন্ত্রের মুখে পড়ছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে একই ধরনের অন্ধকার বারবার ফিরে আসে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো জাতীয় ঐক্য। দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সব গণতন্ত্রকামী শক্তিকে একত্রিত হতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ, দলীয় সংকীর্ণতা কিংবা সাময়িক সুবিধার কথা ভুলে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশে নির্বাচন না হওয়ার জন্য অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরির চেষ্টা করছে। এই অপচেষ্টার পেছনে যারা আছে, তারা প্রকৃত অর্থে দেশের শত্রু।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, নির্বাচন বিলম্বিত হলে লাভবান হবে প্রতিবেশী একটি দেশ এবং অতীতে পরাজিত ও বিতাড়িত পতিত শক্তি। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ, যারা দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি একটি লড়াইয়ের দল। এই দল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই রাজনীতি করে।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি সংকটে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাসে অনস্বীকার্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন—সব ক্ষেত্রেই তার অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, আজ যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, তাদের অনেকেই জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের সুফল ভোগ করছেন, অথচ সেই ইতিহাস অস্বীকার করতে চান।
আব্দুস সালাম বলেন, নির্বাচনের সিডিউল ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা করা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচন হবেই। কিন্তু এই আশ্বাস যদি আগেই স্পষ্টভাবে দেওয়া হতো এবং সরকারের উপদেষ্টারা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দিতেন, তাহলে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা অনেকটাই এড়ানো যেত।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে টানা ১৭ বছর বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মামলা, গ্রেপ্তার, গুম ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে রাজনীতি পরিচালনা করতে হয়েছে। যদি আগেই একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ এবং সংস্কার প্রস্তাব প্রকাশ করা হতো, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আব্দুস সালাম আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তার মতে, দেশের সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি, গণতন্ত্রও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরে আসেনি। তবুও সব ব্যর্থতার দায় বিএনপির ওপর চাপানোর একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপির একটি গৌরবোজ্জ্বল অতীত রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অতীত নানা প্রশ্নে বিতর্কিত এবং জামায়াতের অতীত নিয়েও মানুষের মধ্যে সংশয় আছে। এই বাস্তবতায় জনগণের সামনে প্রশ্ন থাকে—কেন তারা আবারও সেই দলগুলোকে ভোট দেবে?
আব্দুস সালাম বলেন, জিয়াউর রহমানের নাম বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়। তার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে তারেক রহমান সামনে এসেছেন এবং তিনি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য দল হিসেবে তিনি বিএনপির কথাই উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহান বিজয় দিবস কেবল একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, এটি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার শপথ নতুন করে নেওয়ার দিন। তারা সবাইকে বিভেদ ভুলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।