কেন বাঁচানো গেল না ওসমান হাদিকে? চিকিৎসকদের চাঞ্চল্যকর তথ্য

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮০ বার

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের সাহসী কণ্ঠস্বর শরীফ ওসমান হাদি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। রাজধানীর রাজপথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর টানা এক সপ্তাহ যমে-মানুষে লড়াই করে অবশেষে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বিপ্লবী তরুণ। দেশ ও বিদেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পরেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি মূলত তার মস্তিষ্কে হওয়া ভয়াবহ আঘাতের কারণে।

চিকিৎসকদের মতে, হাদির মৃত্যু হয়েছে ‘ম্যাসিভ ব্রেন টিস্যু ইনজুরি’ বা মস্তিষ্কের কোষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে। তারা জানিয়েছেন, অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করার কারণে তার মস্তিষ্কের ভেতরের অংশগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের গভীর ও গুরুতর জখমের ক্ষেত্রে সাধারণত ৯০ শতাংশ রোগীরই মৃত্যু ঘটে এবং হাদির ক্ষেত্রেও সেই ক্ষীণ আশাটুকু শেষ পর্যন্ত মিলিয়ে গেছে।

স্মরণ করা যেতে পারে যে, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় রিকশায় চড়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে আসা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার মাথার ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, যা তাৎক্ষণিকভাবে তার স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে দেয়। ঘটনার পরপরই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় সরকারি বিশেষ উদ্যোগে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা থাকলেও শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় তা আর সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এই ধরনের নিউরোট্রমা কেস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান জানান যে, গুলির প্রচণ্ড গতির কারণে হাদির ব্রেন স্টেম এবং টিস্যুগুলো পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল।

হাদির চিকিৎসায় দেশে ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল যারা কয়েক দফায় সিটি স্ক্যান করে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে হাদির মস্তিষ্ক ফুলে ছিল, যা মস্তিষ্কে স্বাভাবিক অক্সিজেন সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে।

মূলত এই দীর্ঘমেয়াদী অক্সিজেন স্বল্পতা এবং টিস্যুর স্থায়ী ক্ষতিই তার মৃত্যুকে অনিবার্য করে তোলে। যদিও তার পরিবার ও দেশবাসীর আস্থার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরের বিশ্বমানের নিউরো স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অলৌকিক কিছু আর ঘটেনি। জুলাই বিপ্লবের এই সম্মুখ সারির যোদ্ধার মৃত্যুতে কেবল একটি পরিবার নয়, বরং পুরো জাতি এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হলো। তার এই অকাল প্রয়াণ দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করল, যা পূরণ হওয়া প্রায় অসম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত