প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন পেলেও বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (জেএইউ) নেতারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন না। বরং তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীক খেজুর গাছ ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। এই সিদ্ধান্ত সম্প্রতি বিএনপি ও জমিয়তের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও বিএনপির মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার ফলে পারস্পরিকভাবে নির্দিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার প্রথা স্থাপন করা হয়েছে। এই সমঝোতা অনুযায়ী, জেএইউ যে চারটি আসনে প্রার্থী দেবে, সেই আসনগুলোতে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দেবে না। একইভাবে বিএনপির নির্দিষ্ট আসনে জেএইউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। এই চুক্তি নির্বাচনকে আরও সংগঠিত ও জোটভিত্তিক করতে সাহায্য করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে, জমিয়ত নেতাদের জন্য বিশেষভাবে চারটি আসন ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই আসনগুলো হলো নিলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে মাওলানা মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে মাওলানা মোঃ উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব। এই আসনগুলোতে জেএইউ প্রার্থী তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই সমঝোতা রাজনৈতিক সহমতের ফলাফল, যা নির্বাচনী মাঠে কার্যকর হবে। চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর নির্বাচনী জোটের ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ দলীয় প্রতীকের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করবেন। এটি নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও স্বতন্ত্রতার দিকেও গুরুত্ব দেয়।
অর্থাৎ, প্রার্থীরা দলীয় সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের কাছে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় প্রতীক ধরে রাখতে পারবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদনও এই বিধান নিশ্চিত করেছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এই সংশোধন নির্বাচনে প্রার্থীদের দলীয় স্বায়ত্তশাসন ও প্রতীকের ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমঝোতা বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। দলীয় সমর্থন ও ব্যক্তিগত প্রতীক একসঙ্গে রাখার মাধ্যমে ভোটাররা প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় ও পারস্পরিক জোটের দিক উভয়কেই মূল্যায়ন করতে পারবে। একই সঙ্গে, নির্বাচনে রাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাবের ভারসাম্যও বজায় রাখা সম্ভব হবে।
জমিয়ত নেতাদের জন্য ধানের শীষে না লড়ার সিদ্ধান্ত দলীয় স্বাতন্ত্র্য এবং ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়াস হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এতে ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের নিজস্ব পরিচয় স্পষ্ট হবে। ফলে দলের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও ভোটারদের কাছে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। যেহেতু বিএনপি ও জেএইউ বিভিন্ন আসনে সমর্থন দিচ্ছে, ভোটাররা দলীয় সমঝোতা এবং প্রার্থীর স্বাতন্ত্র্যকেও স্বচ্ছভাবে দেখতে পারবে। এতে ভোটাধিকার ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এই নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপি ও জমিয়ত উভয়ই শক্তি ও ভোটার ভরসা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। নতুন প্রার্থী ও দলীয় সমর্থনের সমন্বয় নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতাকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ ও সমতার ভিত্তিতে প্রভাবিত করবে।