প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের বিএনপির দলীয় ধারেন শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা ও ‘গায়েবী আসামি’ করার প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের নেত্রীরা তীব্র বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বসুরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিলের পর জিরো পয়েন্টে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকারের বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয় এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়।
জেলা বিএনপির সভানেত্রী ভিপি সাহানা পারভীন বলেন, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিস্ট বিরোধী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছে।
সভায় ভিপি সাহানা পারভীন আরও বলেন, “ফখরুল ইসলাম বিএনপির একজন জনপ্রিয় নেতা, নোয়াখালী-৫ আসনে তারেক রহমানের প্রতিনিধি এবং ধানের শীষের কাণ্ডারী। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হয়, আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক করছি।”
সমাবেশে জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাহানা পারভীন ছাড়াও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী রওশন আরা, নাঈমা ফেরদাউস ববি, জোসনা আরাসহ অন্য নেত্রীরা বক্তব্য রাখেন। তারা ফখরুল ইসলামের প্রতি সাপোর্ট জানিয়ে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি পুনর্বার করেন এবং সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অন্যায় আচরণ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আলমগীর সেখ নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় কুষ্টিয়ার কুমাখালী এলাকার মো. সোহানুর রহমান বাদি হয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হলেও, নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদারকেও আসামি করা হয়েছে।
মহিলা দলের নেতারা উল্লেখ করেন, রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা একটি ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত। এ ধরনের ঘটনা কেবল ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তারা দাবি করেন, বিচারবহির্ভূত এই মামলার অবিলম্বে প্রত্যাহার না হলে দল আরও শক্তিশালী কর্মসূচি গ্রহণ করবে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষার জন্য সরকারের উচিত সুষ্ঠু এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা। এ ধরনের মিথ্যা মামলা শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতাদের হয়রানি করে না, বরং সাধারণ জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণেও প্রভাব ফেলে।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের নেত্রীরা স্থানীয় জনগণ ও সমর্থকদের কাছে একত্রিত হয়ে ফখরুল ইসলামের প্রতি সমর্থন জানান। তারা জানান, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা হচ্ছে, তা জনগণের কাছে প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বক্তারা বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের মামলাগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।
বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা একমত পোষণ করেন যে, মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের উপর এ ধরনের দায়ের করা মামলা একদিন অবশ্যই বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরসন হবে এবং তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে।