চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি ছাড়লেন ৭১ নেতাকর্মী, জামায়াতে যোগদান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৩ বার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিএনপির ৭১ জন নেতাকর্মীর একযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এসব নেতাকর্মীর দলত্যাগ ও নতুন দলে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ ঘটনা দলীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ও তৃণমূল পর্যায়ের মনোভাবের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন অনেকে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহেলা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপির এই ৭১ নেতাকর্মী জামায়াতের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন। স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল। যোগদানকারীরা জানান, দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই তারা নতুন রাজনৈতিক আদর্শ ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আগ্রহী হয়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি এবং চুয়াডাঙ্গা–১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিনি নবাগত নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক আদর্শ, নৈতিকতা ও সেবার রাজনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

যোগদানকারীদের মধ্যে ছিলেন জেহেলা ইউনিয়নের সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি কাজী ইউনুস, সাবেক সেক্রেটারি ইমারত, যুবদল নেতা সুরুজ আলী, আব্দুর রশীদ ব্যাপারী, চিকিৎসক কাউছার আলীসহ আরও অনেক পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই নেতাকর্মীদের অনেকেই তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, ফলে তাদের দলবদল স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জামায়াতে ইসলামী যে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক নয়। তার ভাষায়, এটি বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, যা মানবতার কল্যাণ, ন্যায়বিচার, সততা ও জবাবদিহিতার শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায় দূর করতে হলে এই আদর্শের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার রাজনীতিতে নয়, বরং সেবার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। নতুন যারা আজ জামায়াতে যোগ দিয়েছেন, তাদের নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তার বক্তব্যে নতুন সদস্যদের প্রতি দায়িত্ববোধ ও আদর্শিক দৃঢ়তার আহ্বান ছিল স্পষ্ট।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক আদর্শের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবে তা হতে হবে বিবেক ও বিশ্বাস থেকে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সদস্যরা জামায়াতের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ সংস্কারে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইন ও আদালত বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মো. সাগর আহমেদ, এইচআরডি সম্পাদক আবু রায়হান, চুয়াডাঙ্গা পৌর সভাপতি মো. রাব্বি হাসান, ছাত্রশিবির জেহেলা ইউনিয়ন সভাপতি মো. শ্রাবণ আহমেদ, জামায়াতের জেহেলা ইউনিয়ন আমির সহকারী অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবির, সেক্রেটারি তৌহিদুল ইসলাম মৃদুল, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রহমান এবং ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি থেকে একসঙ্গে এতসংখ্যক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান আলমডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হতাশা, সাংগঠনিক দুর্বলতা কিংবা আদর্শগত টানাপোড়েন থেকেই এ ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

যোগদানকারীদের কয়েকজন নেতাকর্মী অনুষ্ঠানের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, তারা রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ও নৈতিকতার চর্চা দেখতে চান। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে রাজনীতিকে হতে হবে সেবামুখী ও স্বচ্ছ। এই বিশ্বাস থেকেই তারা নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানান।

এই যোগদান অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে আদর্শভিত্তিক রাজনীতির বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। সামনে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ধরনের দলবদল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে চুয়াডাঙ্গার জেহেলা ইউনিয়নের এই ঘটনাটি নিঃসন্দেহে সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত