আপনাদের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরেছি: তারেক রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৯ বার
আপনাদের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরেছি: তারেক রহমান

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমিতে ফিরে আবেগঘন কণ্ঠে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “প্রথমেই রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দোয়ায়, আপনাদের দোয়ায় আমি আজ আবার মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।” বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি এসব কথা বলেন। তার কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতা, আবেগ আর দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর দেশে ফেরার স্বস্তি।

বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে তারেক রহমান গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছালে মুহূর্তেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের করতালি, স্লোগান আর শুভেচ্ছায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এর আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সংবর্ধনাস্থলে আসার পথে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মানুষের উপস্থিতি জনস্রোতে রূপ নেয়। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর থেকেই সড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড়, হাতে দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন—সব মিলিয়ে পুরো যাত্রাপথ পরিণত হয় এক ঐতিহাসিক দৃশ্যে।

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজধানীর কুড়িল-বিশ্বরোড থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন ৩০০ ফিট সড়কে আগেই বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা সকাল থেকেই সংবর্ধনাস্থলে এসে অবস্থান নেন। অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ তাদের কাছে এক আবেগঘন স্বপ্নের মতো। কারও চোখে ছিল অশ্রু, কারও মুখে ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার হাসি।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। আজ তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপির জন্য নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মঞ্চে উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে সমর্থন জানান।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাইরে থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া তাকে সবসময় শক্তি জুগিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই দীর্ঘ সময়ে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন—তাদের আত্মত্যাগ তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

গণসংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান বলেন, মাতৃভূমিতে ফিরে এসে তিনি নতুন করে দায়িত্বের ভার অনুভব করছেন। দেশের মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে স্বাগত জানিয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন। তার ভাষণে বারবার উঠে আসে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত ছিল। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই দিনটি ছিল তারেক রহমানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার দৃশ্য অনেককেই আবেগাপ্লুত করে। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক—দুই ধরনেরই কঠিন সময় পার করেছেন বলে মনে করেন তার ঘনিষ্ঠরা। আজকের এই সংবর্ধনা সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের এক আবেগঘন সমাপ্তি এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন ও প্রকাশ্য ভাষণ দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিন তিনি দেশের বাইরে থাকলেও বিএনপির নীতিনির্ধারণ ও রাজনৈতিক অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে সরাসরি দেশে ফিরে জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত দিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার বক্তব্যের ভাষা ও বিষয়বস্তু আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশলের ইশারা বহন করছে।

গণসংবর্ধনা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয় নিরাপত্তা বেষ্টনীতে, নিয়ন্ত্রণ করা হয় যান চলাচল। বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, “আপনাদের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি”—এই一 বাক্যেই যেন ধরা পড়ে তারেক রহমানের দীর্ঘ যাত্রার সারকথা। একটি রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি এটি ছিল বিশ্বাস, আবেগ ও প্রত্যাশার মিলনমেলা। এখন দেশের রাজনীতিতে তার ভূমিকা কীভাবে বিকশিত হবে, তিনি কীভাবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবেন—সেদিকেই তাকিয়ে আছে সমর্থকরা। এই দিনের গণসংবর্ধনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত