দেশে ফেরার পর বাবার কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭২ বার
দেশে ফেরার পর বাবার কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে প্রথম কর্মসূচি হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার বাদ জুমা তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। রাজনৈতিক ও পারিবারিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আবেগ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনা তৈরি হয়েছে, তেমনি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। দেশে ফেরার একদিন পরই তার প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি হিসেবে বাবার কবর জিয়ারত ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে অনেকেই প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে তারেক রহমানের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।

বিএনপি সূত্র জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে গুলশানের বাসভবন থেকে তারেক রহমান প্রথমে শেরেবাংলা নগরের জিয়াউর রহমানের কবরস্থানে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া শেষে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা দেবেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধে তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এই কর্মসূচিতে দলীয় শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ তার সঙ্গে থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে স্মৃতিসৌধ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে সাভার এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলে দলে সাভারে আসতে শুরু করেছেন। অনেক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার সুযোগ পাওয়াই তাদের কাছে বড় বিষয়। কেউ কেউ শুক্রবার সকাল থেকেই স্মৃতিসৌধগামী মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার কথা জানান। এতে করে এলাকায় অতিরিক্ত জনসমাগমের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং এর পরপরই এই কর্মসূচি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত যেমন বিএনপির ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার প্রতীক, তেমনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে দলটির অবস্থান পুনরায় তুলে ধরার একটি প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর তারেক রহমানের এই প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের নজর তাই স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনতে পারে। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কৌশল ও নেতৃত্বের প্রশ্নে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাদের ধারণা। তবে শুক্রবারের কর্মসূচিকে তারা মূলত আবেগী ও প্রতীকী হিসেবেই দেখছেন। একজন সিনিয়র নেতা বলেন, “বাবার কবর জিয়ারত ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা—এই দুটি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তারেক রহমান দেশের ইতিহাস ও বিএনপির রাজনৈতিক শেকড়ের সঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন।”

অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তারেক রহমানের এই সফর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে ব্যক্তিগত ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও মূল্যায়ন করছেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে বাবার কবর জিয়ারত করা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক ও আবেগঘন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে সাভার ও আশপাশের এলাকায় যানজট এড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই তাদের লক্ষ্য।

বিএনপির নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করছেন, তারেক রহমানের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল আরও চাঙ্গা হবে। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের কাছে এটি অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

সব মিলিয়ে, দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে বাবার কবর জিয়ারত ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন রাজনৈতিক ও মানবিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্ব বহন করছে। এটি একদিকে যেমন ব্যক্তিগত আবেগের প্রকাশ, অন্যদিকে তেমনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতির সঙ্গে তার অবস্থান পুনরায় দৃশ্যমান করার একটি বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। শুক্রবারের এই কর্মসূচি ঘিরে যে আগ্রহ ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা থেকে স্পষ্ট—তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত সফর নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত