প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনি পরিবেশ, ভোটার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, থানা থেকে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে লোহাগাড়া গ্রান্ড মাশাবী রেস্টুরেন্ট হলে লোহাগাড়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বিএনপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন। সভায় তিনি বলেন, নির্বাচন মানেই কেবল ভোট গ্রহণ নয়; ভোটার যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, অবৈধ অস্ত্র এখনো একটি বড় হুমকি হয়ে আছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে সন্ত্রাসীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোটদান থেকে বিরত রাখতে পারে।
নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, তাঁদের কাছে নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর রয়েছে যে, কিছু গোষ্ঠী বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা কিংবা কেন্দ্রে উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে অবিলম্বে থানা থেকে লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। তা না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
মতবিনিময় সভায় বিএনপি প্রার্থী আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলের দাবি নয়, এটি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। ভোটাররা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে জনগণের আস্থা ফিরে আসবে। অন্যথায় নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ও বিতর্ক আরও বাড়বে।
সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক আসহাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন এলেই অবৈধ অস্ত্রের দাপট দেখা যায়, যা নতুন নয়। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশাসন যদি আগেভাগেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সহিংসতা ও অনিয়ম কমানো সম্ভব। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো পক্ষের চাপ বা প্রভাব না মেনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসএম ছলিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভোটের মাঠে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, বিরোধী দলের প্রার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে নির্বাচন কখনোই অংশগ্রহণমূলক হবে না। একই সুরে কথা বলেন সালাহ উদ্দিন চৌধুরী সোহেল ও ফজলুল কবির ফজলুসহ উপস্থিত নেতারা। তাঁরা বলেন, অবৈধ অস্ত্র শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার জন্যও বড় হুমকি।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেন, মাঠপর্যায়ে কর্মীরা নানা ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়ছেন। অনেক এলাকায় সভা-সমাবেশ করতেও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
নাজমুল মোস্তফা আমিন তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক। তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন মানেই শুধু ভোটের দিন শান্তি নয়, বরং নির্বাচনের আগে ও পরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি দাবি করেন, প্রশাসন যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তাহলে সাধারণ মানুষ ভয় কাটিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো সহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাঁদের লক্ষ্য হলো জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি থাকে, তখন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ব্যাহত হয়। তিনি বলেন, অস্ত্র উদ্ধার একটি রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি একটি জাতীয় প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ইস্যু আবারও সামনে চলে এসেছে। বিশেষ করে থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রের প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রশাসন এই বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারে, তাহলে নির্বাচন নিয়ে আস্থা অনেকটাই বাড়বে। অন্যদিকে, এসব অভিযোগ আমলে না নিলে বিরোধী দলগুলোর অনাস্থা আরও তীব্র হতে পারে।
লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া অঞ্চলের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। একজন ভোটার বলেন, আমরা ভোট দিতে চাই, কিন্তু ভয় থাকলে মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। আরেকজন বলেন, অস্ত্রের রাজনীতি বন্ধ না হলে ভোটের আনন্দ থাকে না। এসব কথায় স্পষ্ট, নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশার পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে।
মতবিনিময় সভা শেষে বিএনপি নেতারা বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান। সে জন্য প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং ভোটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।