প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বিশিষ্ট আলেম মুফতি হাবিবুর রহমান (৫৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার রাতের দিকে অসুস্থ অবস্থায় নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ইন্তেকালে শুধু একটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন নয়, বরং গোটা দ্বীনদার সমাজ একজন নিবেদিতপ্রাণ আলেম, সংগঠক ও চিন্তাশীল ইসলামী আন্দোলনের কর্মীকে হারাল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুফতি হাবিবুর রহমান বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। রোববার রাতে হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, সহকর্মী ও ছাত্র রেখে গেছেন।
মুফতি হাবিবুর রহমান ছিলেন ময়মনসিংহ অঞ্চলে পরিচিত একটি নাম। দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, ইসলামী আন্দোলনের সংগঠন গড়ে তোলা এবং সমাজ সংস্কারে তার ভূমিকা ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে যুক্ত থেকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য আলেম হিসেবে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা বিষয়ে মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
তার ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় বলেন, মুফতি হাবিবুর রহমান ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান আলেম, আদর্শবান সংগঠক ও আপসহীন ইসলামী আন্দোলনের কর্মী। দ্বীনের দাওয়াত, তাবলীগ এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয় ও অনুসরণযোগ্য। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিজীবনে মরহুম ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, সজ্জন ও তাকওয়াবান মানুষ। তার ইন্তেকালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একজন পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহকর্মীকে হারাল।
শোকবার্তায় মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ উল্লেখ করেন, মরহুমের মৃত্যু কেবল তার পরিবার বা সংগঠনের জন্য নয়, বরং গোটা দ্বীনদার সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি বলেন, “এমন আলেম ও সংগঠকের অভাব সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আল্লাহ তায়ালার কাছে আমরা দোয়া করি, তিনি যেন মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন, তার কবরকে নূরে ভরপুর করে দেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে এই শোক সইবার তাওফিক দান করেন।”
মুফতি হাবিবুর রহমানের ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মুক্তাগাছা ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তার ছাত্র, সহকর্মী ও স্থানীয় মুসল্লিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া কামনা করেন। অনেকেই তাকে একজন নিরহংকারী ও মানুষের কাছে সহজে পৌঁছানো আলেম হিসেবে স্মরণ করেন। ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা রাখা এবং তরুণ প্রজন্মকে দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে তার অবদান স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।
রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনেও তার মৃত্যুতে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতারা তাকে একজন স্পষ্টভাষী কিন্তু সংযত নেতৃত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলেছেন, মতাদর্শিক দৃঢ়তার পাশাপাশি তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চা করতেন, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মরহুমের জানাজা আজ সোমবার জোহর নামাজের পর ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার গাড়াইকুটি এলাকার নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক সহকর্মী, ছাত্র ও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
মুফতি হাবিবুর রহমানের জীবন ছিল দায়িত্ব ও আদর্শে ভরপুর। ইসলামী আন্দোলনের মাঠে তিনি যেমন সক্রিয় ছিলেন, তেমনি ব্যক্তিজীবনে ছিলেন নীরব সাধক। আলেম সমাজের অনেকেই মনে করেন, তার মতো মানুষের চলে যাওয়া নতুন প্রজন্মের জন্য এক বড় শূন্যতা তৈরি করবে। তবে তার রেখে যাওয়া কাজ, আদর্শ ও স্মৃতি ভবিষ্যতেও মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।
এই ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনে আরেকটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। শোকের এই মুহূর্তে দেশবাসী, বিশেষ করে দ্বীনদার সমাজ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছে এবং তার পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।