নুরের আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাসান মামুনের মনোনয়ন দাখিল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২২ বার
নুরের আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাসান মামুনের মনোনয়ন দাখিল

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের রাজনৈতিক মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের জন্য বিএনপি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, স্থানীয় রাজনীতিতে সেই সমঝোতার প্রভাব খুব একটা শান্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। বরং নুরের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হাসান মামুন।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন হাসান মামুন। একই দিনে বিকেলে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মুফতী আবু বকর সিদ্দীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম ফজলুল হকও মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।

জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে বিএনপি পটুয়াখালী-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয়ভাবে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হলেও, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন। গলাচিপা-দশমিনা আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন হাসান মামুন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা থাকায় অনেকেই তাকে এই আসনের ‘স্বাভাবিক প্রার্থী’ হিসেবে দেখছিলেন।

এই প্রেক্ষাপটে, গত ২৪ ডিসেম্বর গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. সিদ্দিকুর রহমান হাসান মামুনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। সোমবার দুপুর ২টার দিকে সেই মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করেন হাসান মামুন। মনোনয়ন দাখিলের সময় তার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হাসান মামুন বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে গলাচিপা-দশমিনার স্থানীয় বিএনপি এবং সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কিছু করছি না। দল যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে, সেই ব্যবস্থাকে মেনেই আমি নির্বাচনে এসেছি।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে তিনি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা নয়, বরং স্থানীয় বাস্তবতা ও জনমতের প্রতিফলন ঘটাতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে আসন সমঝোতা হলেও তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে হাসান মামুনের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা অনেক নেতাকর্মীর কাছে এক ধরনের ‘স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত একজন নেতাকে বাদ দিয়ে বাইরের সমঝোতার মাধ্যমে প্রার্থী নির্ধারণ করায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মুফতী আবু বকর সিদ্দীক মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর বলেন, তারা দশ দল একত্রে একটি জোট গঠন করেছে। তবে কৌশলগত কারণে সবাই প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। প্রার্থীর অবস্থান, জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, শেষ মুহূর্তে এই আসনে জোটগত সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।

পটুয়াখালী-৩ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। গলাচিপা ও দশমিনা—এই দুই উপজেলার ভোটাররা বরাবরই স্থানীয় নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। সে কারণে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এখানে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।

নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক পরিচিতি ও জাতীয় পর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও, স্থানীয় পর্যায়ে তার সাংগঠনিক ভিত্তি কতটা শক্ত—সে প্রশ্নও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, হাসান মামুন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। এই দ্বন্দ্বই আসন্ন নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনকে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আলোচিত আসনে পরিণত করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, হাসান মামুনের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি যুগপৎ আন্দোলনের ভেতরের সমীকরণ এবং তৃণমূলের মতামতের প্রতিফলন। নির্বাচনী মাঠে এই প্রার্থিতা বিএনপি-গণঅধিকার পরিষদের সমঝোতার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, নুরের আসনে হাসান মামুনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে প্রার্থী প্রত্যাহার, জোটগত সিদ্ধান্ত এবং ভোটারদের মনোভাব—সবকিছু মিলিয়ে এই আসনের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত ও কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত