খালেদা জিয়ার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ঢেউ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৫ বার
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর শোক প্রকাশ

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোক ও নীরবতা। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল, ডান-বাম নানা মতাদর্শের রাজনৈতিক দল এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিবৃতির মাধ্যমে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই নেত্রীর প্রয়াণে রাজনীতির এক দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে মুহূর্তেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে দলটির পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা সারাদেশে এই শোক কর্মসূচি পালন করবেন এবং প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও ভূমিকার কথা স্মরণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাঁকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে এ দেশের মানুষকে পথ দেখিয়েছে। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে তাঁর ভূমিকা ছিল অসামান্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন এবং নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়েছেন, তবুও নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে ছিলেন অবিচল।

নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তাঁর অবদান ও সংগ্রামের স্মৃতি ইতিহাসে সংরক্ষিত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শোকবার্তার শেষে মহান আল্লাহর কাছে প্রয়াত নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর রহম করুন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। একই সঙ্গে তিনি প্রয়াত নেত্রীর পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের জন্য সবরে জামিল কামনা করেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিও শোক প্রকাশ করে বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই—এই সংবাদে তাঁরা গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর মতে, মতাদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি ছিলেন এমন এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রাজনৈতিক বিতর্ক ও আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা মাহফুজ আলমও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। তাঁর এই বক্তব্যে খালেদা জিয়াকে কেবল একটি দলের নেত্রী নয়, বরং রাষ্ট্র ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যে ব্যাপক শোক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রভাবেরই প্রতিফলন। তিনি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন, আবার বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়েও নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে তাঁর আবির্ভাব এবং পরবর্তী কয়েক দশক ধরে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

মানবিক দিক থেকেও খালেদা জিয়ার জীবন ছিল সংগ্রামে ভরা। দীর্ঘ অসুস্থতা, কারাবরণ, রাজনৈতিক চাপ এবং ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্য দিয়েও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছেন। এই কারণেই তাঁর মৃত্যুতে কেবল বিএনপির নেতাকর্মীরাই নয়, বরং ভিন্নমতাবলম্বীরাও শোক প্রকাশ করছেন এবং তাঁর ভূমিকা স্মরণ করছেন।

এই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসন্ধান করে এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত বিস্তারিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে, যাতে পাঠক একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানবিক চিত্র অনুধাবন করতে পারেন।

খালেদা জিয়ার জানাজা, দাফন ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত ঘোষণা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তার আগ পর্যন্ত দেশজুড়ে চলবে শোক ও স্মৃতিচারণ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার নাম চিরকাল উচ্চারিত হবে—সমর্থন, সমালোচনা ও সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত