বেগম জিয়ার মৃত্যুতে মমতার শোকবার্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৩ বার
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মমতা ও মোদির শোকবার্তা

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শুধু দেশেই নয়, প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই শোকপ্রকাশের ধারাবাহিকতায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা অন্যতম জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি শোকাহত। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’ মমতার এই বার্তায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, একজন প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ নেত্রী হিসেবে তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেন।

ভারতের রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন একজন নেতা, যিনি বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে সরব ভূমিকা পালন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সীমান্ত, নদী, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বরাবরই একটি ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করেছেন তিনি। সেই প্রেক্ষাপটে তার শোকবার্তাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রাজনৈতিক ও মানবিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ নরেন্দ্র মোদির এই বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভূমিকার স্বীকৃতি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে তার অবদানকে স্মরণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের শীর্ষ নেতাদের এই শোকবার্তা প্রমাণ করে যে বেগম খালেদা জিয়া কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরই নন, বরং আঞ্চলিক রাজনীতিতেও একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময়ে তার নেতৃত্ব ও অবস্থান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছেও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। ফুসফুসের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তার মৃত্যুর খবরে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, সাংস্কৃতিক মহল, ক্রীড়াঙ্গনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ সালে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে আরও দুইবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক প্রতীক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। সামরিক শাসন-পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার ভূমিকা ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তার রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রামমুখর। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যেমন তাকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে, তেমনি ক্ষমতার বাইরে থেকেও তাকে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক চাপ ও সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে সমর্থকদের মতে, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছিলেন, যা তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলেও তার মৃত্যুতে শোক জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে। এসব শোকবার্তায় বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান, নেতৃত্বগুণ ও দেশের আধুনিক ইতিহাসে তার ভূমিকার কথা উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিবেশী ভারতের শীর্ষ নেতাদের শোকবার্তা বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের মানবিক দিকটিকেই আরও স্পষ্ট করেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্রনায়কদের মৃত্যুতে পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্য প্রকাশ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়।

আজ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যখন গোটা বাংলাদেশ শোকাহত, তখন প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা সেই শোককে আরও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে গেছে। এটি শুধু একজন নেত্রীর বিদায় নয়, বরং উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত