প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের লাখো শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকসমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষাটি নতুন তারিখ নির্ধারণ করে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষা আগামী ৫ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় ওই দিনের নির্ধারিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ স্থগিত করা হলো। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কথা বিবেচনা করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ জানুয়ারি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাকেন্দ্র প্রস্তুতির কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র বিতরণসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম নতুন তারিখ অনুযায়ী পুনরায় সমন্বয় করা হবে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এ সময় দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার পাশাপাশি আগামীকাল বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ছুটির কারণে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর প্রভাব পড়েছে নির্ধারিত বিভিন্ন পরীক্ষা ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মসূচির ওপর। তারই অংশ হিসেবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা বৃত্তির সুযোগ পায়, যা তাদের পড়াশোনায় আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনুপ্রেরণাও জোগায়। তাই পরীক্ষাটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আয়োজন করা জরুরি। রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে পরীক্ষা আয়োজন করলে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মানসিক চাপ বাড়তে পারে—এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষাটি পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিভাবক মহলেও এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে। তারা বলছেন, শোকের এই সময়ে পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতো। নতুন তারিখ নির্ধারণের ফলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় পাচ্ছে। তবে কেউ কেউ পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও প্রস্তুতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষকরা মনে করছেন, নতুন তারিখে পরীক্ষা নেওয়া হলে সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে। কারণ শোক পালনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকে। এতে পরীক্ষার নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারত। পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ায় এসব সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে।
এদিকে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষাসংক্রান্ত যেকোনো হালনাগাদ তথ্য কেবল বোর্ডের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ও নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমের মাধ্যমেই জানানো হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অননুমোদিত তথ্য বিশ্বাস না করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষা খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় শোকের সময় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা স্থগিত করা বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। অতীতেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা শোকের সময় বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি রাষ্ট্রীয় শোকের মর্যাদা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন শিক্ষার্থীদের নতুন তারিখ অনুযায়ী প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষকরা। আগামী ৫ জানুয়ারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে তখনই এই বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার অধ্যায় শেষ হবে।