প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আজকের নির্ধারিত দুটি ম্যাচ স্থগিত করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক, দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য স্বস্তির খবর হলো—স্থগিত হওয়া এই দুটি ম্যাচ আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, শোকের আবহে আজকের ম্যাচ দুটি স্থগিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোকের সময়সূচি, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, দর্শকদের অনুভূতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও এই সিদ্ধান্তের পরপরই স্টেডিয়াম এলাকায় উপস্থিত দর্শকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়, তবুও বোর্ড পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত বৈঠকে বসে বিকল্প পরিকল্পনা নির্ধারণ করে।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ম্যাচগুলো পুনর্নির্ধারণ নিয়ে একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। শোকের সময়সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয় এবং টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে—এমন সমাধান খুঁজতেই বোর্ড সদস্যরা দীর্ঘ আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, বুধবার একই ভেন্যুতে নির্ধারিত সময়েই স্থগিত ম্যাচ দুটি আয়োজন করা হবে। এতে করে লিগের পয়েন্ট টেবিল, দলগুলোর প্রস্তুতি এবং সম্প্রচার সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে না।
বিপিএলের এবারের আসর শুরু থেকেই নানা কারণে আলোচনায়। দলগুলোর পারফরম্যান্স, দর্শকদের উপস্থিতি এবং সম্প্রচার মান—সব মিলিয়ে এবারের টুর্নামেন্টে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ঠিক এমন এক সময়ে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে ম্যাচ স্থগিত হওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শকরা টিকিট, যাতায়াত ও সময় ব্যয়ের বিষয়টি সামনে এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
বিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোর্ড কখনোই দর্শকদের অসুবিধা উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। তবে রাষ্ট্রীয় শোকের বিষয়টি একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায় তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আজকের ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে দ্রুত বিকল্প তারিখ ঘোষণা করে দর্শকদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আগামীকালের ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তের ফলে দলগুলোকে নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। যেসব দল আজ মাঠে নামার কথা ছিল, তারা ইতোমধ্যেই অনুশীলন ও কৌশলগত পরিকল্পনায় সামান্য পরিবর্তন এনেছে। কোচ ও অধিনায়কদের মতে, একদিনের ব্যবধানে ম্যাচ আয়োজন খুব বড় সমস্যা নয়, তবে খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে সবাই মাঠে নামতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাই টুর্নামেন্ট যেন সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যায়। শোকের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব ছিল, আবার দর্শক ও দলগুলোর স্বার্থ রক্ষা করাও আমাদের কর্তব্য। সবকিছু বিবেচনা করেই আগামীকাল ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
দর্শকদের জন্যও এই সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তির। যারা আজ খেলা দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গিয়েছিলেন, তারা আগামীকাল আবার মাঠে আসার সুযোগ পাচ্ছেন। বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজকের ম্যাচের টিকিট আগামীকালও বৈধ থাকবে। কেউ যদি নির্দিষ্ট কারণে খেলা দেখতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে টিকিট ফেরতের বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বিপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্টে এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা বোর্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে বিসিবির প্রস্তুতি আরও সুসংহত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দর্শকদের সঙ্গে সময়মতো ও স্বচ্ছ যোগাযোগ রাখার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, আজ ভোরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। এই শোকের অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মসূচি স্থগিত বা পরিবর্তন করা হয়। ক্রীড়াঙ্গনও এর বাইরে ছিল না। বিসিবির আজকের ম্যাচ স্থগিতের সিদ্ধান্ত সেই শোকের প্রতি সম্মান জানাতেই নেওয়া হয়েছিল।
সব মিলিয়ে বলা যায়, একদিনের ব্যবধানে বিপিএলের স্থগিত ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে এবং দর্শকদের হতাশা কিছুটা হলেও লাঘব করবে। আগামীকাল মাঠে নামা দলগুলো নতুন উদ্যমে লড়াইয়ে নামবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিপিএলের উত্তেজনা যে আবারও মাঠে ফিরছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।