খালেদা জিয়ার জানাজায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ দেবেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯১ বার
খালেদা জিয়ার জানাজায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক মহল শোক প্রকাশ করছে। এ ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেবেন। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন শোকের ছায়ায় ঢেকে গেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে জাতি শোকাহত, রাজনৈতিক দলগুলো একযোগে গভীর শোক প্রকাশ করেছে, আর আন্তর্জাতিক মহলও শোকবাণী পাঠাচ্ছে।

পাকিস্তান হাইকমিশন জানিয়েছে, ইসহাক দারের আসার মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি মানবিক ও প্রার্থনামূলক সংযোগ প্রকাশ পাবে। তিনি জানাজায় যোগ দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের সংহতভাব বজায় রাখার একটি নিদর্শন হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন প্রতিভাবান ও গুরুত্বপূর্ণ নারী নেতা হিসেবে সমাদৃত। তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া দুইবার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবেও তিনি দেশের গণতান্ত্রিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা এই নেতা তার রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য উত্থান-পতনের মুখোমুখি হয়েও দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন।

খালেদা জিয়ার জানাজা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, যা বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক পরিচালনা করবেন। জানাজা শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। দাফনের সময় সাধারণ জনগণ প্রবেশ করতে পারবে না।

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক নেতাদের উপস্থিতি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকে প্রতিফলিত করছে। তার জীবদ্দশায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান ও দেশের জন্য অবিস্মরণীয় ত্যাগের কারণে বিভিন্ন দেশের সরকার, রাষ্ট্রপ্রধান ও কূটনীতিকরা শোক প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের অংশগ্রহণও এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি দিক।

বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন। এভারকেয়ার হাসপাতালে তার লিভার ও কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস এবং বিভিন্ন সংক্রমণজনিত সমস্যার চিকিৎসা চলছিল। ২৩ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২৭ নভেম্বর তার ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। ৪০ দিন পর্যন্ত চিকিৎসার পর ভোর ৬টায় তিনি মারা যান।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। শোক পালনের সময় সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। এছাড়া বুধবার জানাজার দিনে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহলে খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক নেতা, ভক্ত, শিল্পী এবং সাধারণ জনগণ শোকাহত। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানাজায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি মানবিক দিক তুলে ধরবেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হবে।

উপসংহারে বলা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, বিশেষ করে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের উপস্থিতি, তার জীবদ্দশার অবদানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং দুই দেশের সম্পর্কের মানবিক সংযোগের প্রতীক হিসেবে গুরুত্ব বহন করছে। তার মৃত্যু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি শোকের অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে, যেখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল একত্রিত হয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত