প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা আজ বাংলাদেশে আসবেন। এদের মধ্যে পাকিস্তানের স্পিকার আয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালানন্দা শর্মা, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়েন পো ডুয়েন ডিঙ্গেল উল্লেখযোগ্য।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি প্রতিনিধিরা জানাজার আগেই ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দেশে পৌঁছানোর পরে তারা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শোক ও সমবেদনা জানাবেন। এ সময় সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে, খালেদা জিয়ার লাশ রাজধানীর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে জানাজাস্থলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে লাশবাহী গাড়ি রওনা দেয়। যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে চারপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাসার আশপাশে দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ এবং সমর্থকরা শোকপ্রকাশে উপস্থিত রয়েছেন।
এর আগে, বুধবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে গুলশান-২ এলাকায় অবস্থিত এভার কেয়ার হাসপাতাল থেকে লাশবাহী গাড়িটি তারেক রহমানের বাসায় প্রবেশ করে। গাড়ি পৌঁছানোর সময় ঘন শোক ও নীরবতার পরিবেশ বিরাজ করে। বাসার ভেতরে পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়স্বজন এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার মরদেহের পাশে বসে তারেক রহমান কুরআন তেলওয়াত ও দোয়া পড়ছেন। এই বাসাতেই তিনি তার মাকে শেষবারের মতো দেখেছেন। উপস্থিতদের চোখে নীরব শোকের ছাপ স্পষ্ট। পরিবারের সদস্যরা তার সাথে কাঁদছেন এবং দলের নেতারা তাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।
জানাজার প্রস্তুতি প্রশাসনিকভাবে সুসংগঠিত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। রাস্তার পাশে থাকা সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতা ও সমর্থকরা লাশবাহী গাড়ির ধীরে ধীরে রওনা হওয়া পর্যন্ত শোকাহত দৃষ্টি রাখছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালেদা জিয়ার প্রয়াণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দলের রাজনৈতিক সমর্থকরা তার রাজনৈতিক অবদান এবং নেতৃত্বকে স্মরণ করছেন। বিদেশি নেতাদের উপস্থিতি এবং সমবেদনা জানানোর রীতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
জানাজার সময় সাধারণ মানুষও উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। বাসার আশপাশে তাদের উপস্থিতি, শোকের পরিবেশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের সমবেদনা জানানো সব মিলিয়ে একটি মানবিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তৈরি করছে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণ কেবল একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যু নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
বিদেশি প্রতিনিধিদের আগমন এবং তারেক রহমানকে সমবেদনা জানানোর এই অনুষ্ঠান রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। এটি একদিকে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।