থার্টি ফার্স্ট নাইটে কক্সবাজারে ৭টি কঠোর নিষেধাজ্ঞা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৮ বার
থার্টি ফার্স্ট নাইটে কক্সবাজারে ৭ নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ উদযাপনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য জেলা পুলিশ ৭টি বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা পুলিশ এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কক্সবাজার শহর ও সমুদ্রসৈকত এলাকায় আতশবাজি, পটকা ও ফানুস ওড়ানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে পুলিশ দুর্ঘটনা ও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেষ্ট হবে। পাশাপাশি আতশবাজি ও পটকা বিক্রি-বিপণন কেন্দ্রও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিধিনিষেধের আওতায় সবাই নিরাপদভাবে নতুন বছর উদযাপন করতে পারে।

এছাড়া জেলার উন্মুক্ত স্থান ও সড়কে কোনো ধরনের কনসার্ট, নাচ-গান বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার সব বার ও মদের দোকানেও মদ বিক্রয় বন্ধ থাকবে। এই বিধিনিষেধের লক্ষ্য হলো জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উচ্ছ্বাসে নতুন বছরের আনন্দ উদযাপনকে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত করা।

পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার বা উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানো থেকেও সবাইকে বিরত থাকতে হবে। এরকম কর্মকাণ্ড সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ সতর্ক ও জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

নববর্ষ উদযাপনে শহরে উচ্চ শব্দে গাড়ির হর্ন বাজানো, প্রতিযোগিতা, জয় রাইড এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোও নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নববর্ষ উদযাপনে পর্যটক ও স্থানীয়দের ইভটিজিং বা হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। পর্যটক, বিশেষ করে নারী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

হোটেল ও মোটেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা ইনডোর অনুষ্ঠানের তথ্য এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) কে অবহিত করবেন। জেলা পুলিশ পর্যটকসহ জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানিয়েছেন, জনস্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে সবাই নতুন বছরকে শান্তিপূর্ণভাবে স্বাগত জানাতে পারে।

কক্সবাজারে প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে প্রচুর পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ সমুদ্রসৈকত, শহরের প্রধান সড়ক ও পর্যটন এলাকায় ভিড় জমান। পুলিশের ধারণা, এই উৎসবের সময় দুর্ঘটনা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এবারও জেলা পুলিশ কঠোর নজরদারি করবে। শহরজুড়ে পুলিশের উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কবার্তার পাশাপাশি জেলা পুলিশ জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে। তারা চাইছেন, মানুষ যেন নিরাপত্তার খাতিরে এসব বিধি মেনে চলে। এতে করে নতুন বছর উদযাপন হবে আনন্দময়, শান্তিপূর্ণ এবং সকলের জন্য নিরাপদ।

সংক্ষেপে, কক্সবাজারে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে এই ৭টি নিষেধাজ্ঞা জনসাধারণের জীবনযাত্রাকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার ঝুঁকি কমাবে। পুলিশ ও পর্যটকরা একযোগে কাজ করলে কক্সবাজার নতুন বছর উদযাপন করবে শান্তিপূর্ণ এবং সুন্দরভাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত