প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের কুনিয়ারহাট এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে জাহিদ শেখ (৪০) নামে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সজিব শেখ আব্দুল্লাহকে এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
নিহত জাহিদ শেখ একই এলাকার জবেদ শেখের ছেলে। সে স্থানীয়ভাবে একজন অভিজ্ঞ ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অপরদিকে, অভিযুক্ত সজিব শেখ আব্দুল্লাহ রাজৈর উপজেলার বাজিতপুরের মাচ্চর গ্রামের মোস্তফা শেখের ছেলে। স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন জাহিদ নিজের ঘরে কাজ করছিলেন। হঠাৎই সজিব তার ঘরে প্রবেশ করে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
পরিবার ও প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে। অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে তৎক্ষণাৎ ধরিয়ে দেন এবং পুলিশকে খবর দেন। মাদারীপুরের পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠায়। মাদারীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, হত্যার কারণ উদঘাটনের জন্য অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডকে গভীরভাবে শোক এবং ক্ষোভের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। নিহতের আত্মীয় মীর জামাল সরদার জানান, তারা হত্যার পেছনের কারণ জানেন না। তবে তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নিহত জাহিদের মামা মোয়াজ্জেম মাতুব্বরও বলেন, ‘ঘরে কাজ করার সময় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ভাগ্নে জাহিদকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, জাহিদ শেখ ছিলেন এলাকার পরিচিত এবং তার পরিবারের সঙ্গে সবার সম্পর্ক সুসম্পর্কপূর্ণ ছিল। সেই কারণে হত্যাকাণ্ড স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঘটনাস্থল ঘিরে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। পুলিশ এবং স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, পুলিশ বলছে, হত্যার কারণ এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, এটি ব্যক্তিগত বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কিন্তু তদন্ত চলমান, তাই সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও প্রকাশ করা যায়নি। অপরাধের প্রেক্ষাপটে, পুলিশ আশা করছে যে মামলার তদন্তের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উন্মোচিত হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মাদারীপুরের এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোক এবং আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এমন নির্মম ঘটনা আবার যেন ঘটতে না পারে, সেই জন্য পুলিশকে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও, নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত দাবি করছেন, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এই হত্যাকাণ্ড দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তির জন্য হুমকি স্বরূপ।
মাদারীপুরের সদর উপজেলার কুনিয়ারহাটে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্কের ছাপ রেখেছে। পুরো এলাকা মৃতপ্রায় হয়ে গেছে এবং নিহতের পরিবার নীরব শোকের মাঝে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে, তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত তথ্য প্রকাশ পাবে।