প্রকাশ: ১১ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে রাজধানীর বনানী থানার একটি অস্ত্র আইনের মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত চলমান থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জেল হেফাজতে রাখার আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: হাসিবুজ্জামান।
শুক্রবার (১১ জুলাই) দুই দিনের রিমান্ড শেষে আনিসুল হককে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে হাজিরের পর বনানী থানার এসআই মো: জানে আলম দুলালের দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান। আদালত মামলার অগ্রগতির স্বার্থে এই আবেদন মঞ্জুর করে তাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই মামলার প্রেক্ষাপট ঘিরে সামনে এসেছে একটি পুরনো প্রজ্ঞাপন, যা ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট জারি হয়। সেখানে বলা হয়, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যেসব ব্যক্তিগত নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল, তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সধারীদের ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ নিকটস্থ থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সময়সীমার মধ্যে কেউ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে তা আইনগতভাবে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হবে এবং অস্ত্র আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আনিসুল হক এই নির্দেশনা অমান্য করেছেন। তিনি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বনানী থানায় কিংবা অন্য কোনো থানায় জমা দেননি, এমনকি কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমেও তা করেননি। এছাড়া তার লাইসেন্সে উল্লেখিত বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের তথ্য প্রদানও তিনি করেননি।
এমন পরিস্থিতিতে গত ২৪ মে বনানী থানায় এসআই জানে আলম দুলাল অস্ত্র আইনের ১৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ৭ জুলাই আদালত তার বিরুদ্ধে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যা শেষ হয় ১১ জুলাই।
তবে সবচেয়ে নাটকীয় অংশটি ঘটে তার গ্রেপ্তারের সময়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট আনিসুল হককে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে আটক করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নৌপথে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
আনিসুল হক বাংলাদেশের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, যিনি একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে এমন একটি মামলায় গ্রেপ্তার এবং রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণের ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
এখন সবার নজর মামলার পরবর্তী অগ্রগতির দিকে, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষ কীভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে এবং আসামিপক্ষ কী যুক্তি দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই মামলার রায়ের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও বিচারব্যবস্থার এক স্পর্শকাতর অধ্যায়ের অবসান ঘটবে কিনা, সে অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ।