প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
খুলনা-৩ সংসদীয় আসনে নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই শেষে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়। মোট ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল ও নয়জনের বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ মোল্লা, মো: আবুল হাসনাত সিদ্দিক এবং এস. এম. আরিফুর রহমান মিঠু। অন্যদিকে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. আউয়াল, বিএনপির রকিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, স্বতন্ত্র মো: মুরাদ খান লিটন, বাসদের জনার্দন দত্ত, খেলাফত মজলিসের এফ এম হারুন অর রশিদ, এনডিএম-এর শেখ আরমান হোসেন এবং জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস. এম. আরিফুর রহমান মিঠু সাংবাদিকদের বলেন, ভোটার স্বাক্ষরের পাঁচজনের তথ্যে ত্রুটি থাকার কারণে প্রাথমিকভাবে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি আপিল করেছেন এবং আশা করছেন মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হবে। অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ মোল্লাও জানিয়েছেন, তিনি আপিল করেছেন। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল হাসনাত সিদ্দিক বলেন, এক শতাংশ ভোটার স্বাক্ষরের মধ্যে চারজনের তথ্য সঠিক না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
খুলনা-৩ আসনের রিটার্নিং অফিসার ফয়সাল কাদের জানিয়েছেন, ঋণখেলাপি থাকা ও ভোটার স্বাক্ষরে ত্রুটির কারণে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘তাদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আপিল করলে পুনঃবিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। তারা বলেন, এ ধরনের প্রক্রিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের যোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনী মাঠে সকল প্রার্থীকে বৈধতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখে।
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরণের মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং সুষ্ঠু ভোটাভুটির ক্ষেত্রে কমিশনের দায়িত্বের স্বীকৃতি দেয়। তারা আশা করছেন, প্রার্থী যারা আপিল করবেন, তাদের বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে, যাতে নির্বাচনী কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করা যায়।
খুলনা-৩ আসনে ভোটাররা নতুন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে উদগ্রীব। তারা আশা করছেন, সকল প্রার্থী নির্বাচনী যোগ্যতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করবে এবং ভোটাধিকার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রয়োগ করতে পারবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় ভোটাররা এবার নির্বাচনী প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হলেও তাদের আপিল প্রক্রিয়ার ফলে নির্বাচনী তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই প্রার্থীরা প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন হারালেও, আপিলের মাধ্যমে বৈধতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। খুলনা-৩ আসনের নির্বাচনী মাঠে এই ঘটনা প্রার্থীদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার গুরুত্বকেও সামনে এনেছে।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ ভোটার ও প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়ম ও শর্তাবলী মেনে চলা আবশ্যক। এতে নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক করার প্রচেষ্টা প্রকাশ পাচ্ছে।