সিলেটে নতুন বছরে শিক্ষার্থীদের হাতে ৫৮ লাখ বই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৪ বার
সিলেটে নতুন বছরে শিক্ষার্থীদের হাতে ৫৮ লাখ বই

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নতুন বছরের প্রথম দিনে সিলেটের স্কুল প্রাঙ্গণগুলো রূপ নেয় এক আনন্দমুখর বইমেলায়। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে নগর ও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন পাঠ্যবই। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে এক ভিন্ন রকম উন্মাদনা নিয়ে। কেউ নতুন বইয়ের পাতা উল্টে গন্ধ নিচ্ছে, কেউ আবার রঙিন মলাটে মোড়া বই বুকে জড়িয়ে ধরছে পরম যত্নে। এই মুহূর্তের আনন্দে অনেক অভিভাবকও সন্তানদের সঙ্গে উপস্থিত থাকেন।

সকাল থেকেই সিলেট নগরের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষকরা আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন। কোথাও ফলাফল যাচাই শেষে বই বিতরণ করা হয়, যা শিশুদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। যদিও এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো ‘বই উৎসব’ আয়োজন করা হয়নি, তবুও বই বিতরণে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকেই সারাদেশের মতো সিলেটেও পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তা নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। সিলেট বিভাগের চার জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখের বেশি বই। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশাল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব বই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক আবু সায়ীদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, “এ বছর আনুষ্ঠানিক কোনো বই উৎসব না হলেও শিক্ষার্থীরা যাতে নির্ধারিত সময়েই বই পায়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণ প্রায় সম্পূর্ণ হলেও মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল স্তরে কিছুটা দেরি হচ্ছে। এই স্তরে এখনো প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, সরবরাহ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই বাকি বইগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে।

সিলেটের স্কুলগুলোতে বই বিতরণের দৃশ্যকে অনেক অভিভাবক উৎসাহব্যঞ্জক মনে করছেন। এ বিষয়ে একজন অভিভাবক বলেন, “বই হাতে পাওয়ার এই আনন্দ শিশুদের পড়াশোনার প্রতি নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে দেয়। এটি শুধু শিক্ষার প্রাথমিক উপকরণ নয়, বরং তাদের মনোবল ও আগ্রহ বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।” অন্য এক শিক্ষক জানান, “নতুন বই হাতে পাওয়ার মুহূর্তটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ। এটি শুধু শিক্ষার সূচনা নয়, বরং শিক্ষার প্রতি তাদের ভালবাসা ও উৎসাহও বাড়ায়।”

শিক্ষার্থীদের আনন্দময় এই দৃশ্য শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রমের সুফলও প্রতিফলিত করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যথাসময়ে পাঠ্যবই বিতরণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পড়াশোনা করতে পারবে। এতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা নতুন বছরে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করতে পারবে।

সিলেটে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় নয়, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্যও তা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষকরা নতুন বই বিতরণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একদিন কাটানোর মধ্য দিয়ে এক ধরনের উৎসাহ ও দায়িত্ববোধের উদযাপন করছেন। অভিভাবকরা তাদের সন্তানের হাতে বই তুলে দেওয়ার সময় সন্তুষ্টি ও গর্ব অনুভব করছেন।

সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় আয়োজন না থাকলেও নতুন বইয়ের আনন্দে সিলেটের শিক্ষার্থীরা পুরো শহরকে উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত করেছে। বছরের প্রথম দিনেই বই হাতে পাওয়ার এই মুহূর্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি নতুন উদ্দীপনা ও আশার আলো জ্বালিয়েছে—যা শিক্ষক ও অভিভাবকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের মনোবল, আগ্রহ এবং শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের শিক্ষা খাতের জন্য সুসংবাদ হিসেবে ধরা যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত