প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিলেট টাইটান্সের সমর্থকরা নতুন বছরের প্রথম দিনে পেয়েছেন এক উত্তেজনাপূর্ণ জয়। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে খেলা ম্যাচে মাত্র ৬ রানে জয় তুলে সিলেটের দলের এই পারফরম্যান্স দর্শকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটিয়েছে। ব্যাটিং শুরু করার সময় ৯২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে থাকা সিলেটের ইনিংস ধীরে ধীরে রূপ নেয় ঝোড়ো আক্রমণে। নতুন যোগ হওয়া আজমতউল্লাহ ওমরজাই ২৪ বলে ৫০* রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যা দলের সংগ্রহকে ৫ উইকেটে ১৭৩ রানে নিয়ে যায়।
জবাবে ঢাকার দল ৭.৩ ওভারে ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে। তবে শামীম পাটোয়ারি দলকে নতুন প্রাণ দেন। ৪৩ বলে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেও শেষ পর্যন্ত ঢাকা ৮ উইকেটে ১৬৭ রানে থামে, ফলে জয় হাতছাড়া হয় তাদের। শামীমের ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা, যা তার ক্যারিয়ার সেরা টি-টোয়েন্টি ইনিংস হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
ম্যাচের শুরুতে সিলেটের শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না। ২২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে দলটি ছিল বিপদের মধ্যে। তখন দর্শকদের মধ্যে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু পারভেজ হোসেন ইমন ৩২ বলে ৪৪ রান করে পরিস্থিতি সামাল দেন। তার বিদায়ের পর দলটি আবারও চাপের মুখে পড়লে ত্রাণ হিসেবে আবির্ভূত হন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ২৪ বলে ৫০* রান করে তিনি দলের সংগ্রহকে শক্তিশালী করেন।
ঢাকার হয়ে সালমান মির্জা ৪৬ রানে দুটি উইকেট নেন। এছাড়া সাইফ হাসান এক উইকেট নেন। ঢাকা দলের ব্যাটিংয়ের মধ্যে কিছুটা স্থিরতা আনে উসমান খান ও সাব্বির রহমান। ১৫ বলে ২১ রান করে উসমান খান এবং ১৯ বলে ২৩ রান করে সাব্বির খান দলকে সামান্য প্রতিরোধ গড়ে দেন। তবে সেটি যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে শামীম পাটোয়ারি দলকে প্রায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসেন।
শেষ ওভারের নাটকীয় মুহূর্তগুলো ছিল দর্শকদের জন্য সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। শেষ ওভারের প্রথম বলে ৪ হাঁকানোর পর দ্বিতীয় বল করতে আসা মোহাম্মদ আমিরের দুই ডেলিভারিতে মাত্র দুটি রান যোগ হয়। শেষ ৫ বলে ঢাকার জয়ের জন্য দরকার ছিল ২১ রান। দ্বিতীয় বলেই ছয় হাঁকানোর পর জয়ের সমীকরণ সহজ হয়ে গেল। তবে শেষ তিন বল ওভারের চাপে সিলেটের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঢাকা দলের জয়ের স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি।
সিলেট টাইটান্সের বোলারদের মধ্যে আজমতউল্লাহ ওমরজাই দুটি উইকেট নেন। এছাড়া মোহাম্মদ আমির ও নাসুম আহমেদ দু’জনেই দুটি করে উইকেট নেন। এই জয় সিলেটের সমর্থকদের জন্য এক অনন্য আনন্দের মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে। মাঠে থাকা দর্শকরা লাক্কাতুরায় উত্তেজনা ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের জন্য আনন্দের ঢেউয়ে ভেসে যান।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর অনুযায়ী, সিলেট টাইটান্স ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে, যেখানে ওমরজাই ৫০* এবং ইমন ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন। ঢাকা ক্যাপিটালস তাদের ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৭ রানে থামেন, শামীম ৮১* এবং সাব্বির ২৩ রান করেন। ফলাফল: সিলেট টাইটান্স ৬ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা হিসেবে নির্বাচিত হন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
সিলেটের এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে। দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও সমর্থনের মধ্যে সিলেট টাইটান্সের খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চ দান করেছেন। ম্যাচে ব্যাটাররা যেমন আক্রমণাত্মক খেলে মন জিতেছে, তেমনি বোলাররাও শেষ পর্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই দর্শকদের জন্য যথেষ্ট আনন্দদায়ক ও অর্থপূর্ণ ছিল।