প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিতে দোয়া এবং মর্যাদার সঙ্গে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে বিশেষ আয়োজন করা হয়। এ সময় দোয়া পরিচালনা করেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। যদিও দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও তিনি স্পষ্ট করেছেন, দলের নীতি এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি দায়বদ্ধতা অব্যাহত রাখবেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি দল ছেড়ে যাইনি, এলাকার মানুষকেও ছেড়ে যাইনি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমার ওপর যে লড়াইয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত পালন করবো।” সভার শুরুতেই তিনি খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন। এই মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ, যারা রাজনৈতিক নেত্রীকে পাশে পেয়ে খুশি এবং অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, “আমার নেত্রীর জানাজা ও দাফনও সম্পন্ন হয়নি, এর মধ্যেই আমার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। আমার সঙ্গে যদি কোনো অন্যায় বা বেইনসাফি হয়ে থাকে, তার বিচার আমি আল্লাহর দরবারে ছেড়ে দিয়েছি।” এ বক্তব্যে তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় বাধা-অসুবিধা তাকে দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে “আমার দেশ”কে তিনি বলেন, “স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আমি আমার নেত্রীর জন্য দোয়া পড়েছি এবং সবাইকে দোয়া করতে উৎসাহিত করেছি। এটি শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং ব্যক্তিগত ও মানবিক দায়িত্বও। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আমি জনগণের পাশে থাকব, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং নেত্রীর প্রদত্ত দায়িত্ব পূরণ করতে চাই।”
রুমিন ফারহানার এই দৃঢ় মনোভাব আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকাটি সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। জানা গেছে, তিনি ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দল থেকে বহিষ্কারিত হওয়া সত্ত্বেও রুমিন ফারহানার ব্যক্তিত্ব, জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে নির্বাচনী এলাকায় শক্ত অবস্থানে রাখবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষ—সকলের সঙ্গে বসে এলাকার সমস্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে কথা বলেন। সেখানে উপস্থিতরা নেত্রীর প্রতি তাঁর সৎ ও অক্লান্ত দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসা করেন। রুমিন ফারহানা জানান, দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি মানুষের কল্যাণ এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠারও। তিনি নির্বাচনী এলাকায় শান্তি, সংহতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করতে চান।
রুমিন ফারহানার মন্তব্যে উঠে আসে তার রাজনৈতিক সংকল্প এবং মানবিক মূল্যবোধ। বহিষ্কৃত নেত্রী হলেও তিনি এলাকায় জনগণের পাশে থাকতে চান, তাদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করছেন এবং নিজেকে জনগণের প্রতিনিধিত্বের জন্য প্রস্তুত রাখছেন। রাজনৈতিক সমালোচনা ও ব্যক্তিগত প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন যে, দেশের মানুষের সেবা এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রদত্ত দায়িত্ব থেকে তিনি একপলকও বিচ্যুত হবেন না।
এছাড়া রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রুমিন ফারহানার এমন মনোভাব, যেখানে দলীয় অবস্থান বা শৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে দায়িত্ব পালন করা হয়, তা প্রার্থী হিসেবে তার ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করবে। নির্বাচনী এলাকায় তার এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল মনোভাব সাধারণ মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে।
সব মিলিয়ে, রুমিন ফারহানা দেশের রাজনীতিতে দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দলীয় বাধা, বহিষ্কার বা সমালোচনার মধ্যেও তিনি দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দেওয়া দায়িত্ব শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার এই মনোভাব ভোটারদের কাছে প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে তার অবস্থান শক্ত করবে।