বাকৃবিতে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য স্পেশাল বাস সার্ভিস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮১ বার
বাকৃবিতে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য স্পেশাল বাস সার্ভিস

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রশাসন এবার নিয়েছে সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ। আগামীকাল শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে চালু করা হয়েছে ‘স্পেশাল বাস সার্ভিস’। এই বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন এবং পরীক্ষা শেষে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলজারুল আজিজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ভর্তি পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত রুটে বিশেষ বাস চলাচল করবে। পরীক্ষার আগে ও পরে এই বাস সার্ভিস চালু থাকবে, যাতে বাইরের জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা যানজট, রিকশা সংকট কিংবা অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার পরীক্ষার পূর্বে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মোট তিনটি ট্রিপে বাস চলবে। দিঘারকান্দা বাইপাস মোড় ও কেওয়াটখালী বাইপাস—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে বেলা ১১টা, দুপুর ১২টা এবং দুপুর ১টায় বাসগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। এই সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন এবং শেষ মুহূর্তের দুশ্চিন্তা এড়াতে পারেন।

পরীক্ষা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় পুনরায় বাস সার্ভিস চালু থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাড এলাকা থেকে বাসগুলো ছেড়ে যাবে এবং পরীক্ষার্থীদের দিঘারকান্দা বাইপাস ও কেওয়াটখালী বাইপাসে পৌঁছে দেবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনায় নিয়েই এই নির্দিষ্ট স্থানগুলো নির্বাচন করা হয়েছে, যেগুলো থেকে সহজেই শহরের অন্যান্য এলাকায় যাতায়াত করা সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই স্পেশাল বাস সার্ভিসের মূল উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার সময় ময়মনসিংহ শহরে অতিরিক্ত যানজট সৃষ্টি হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন না, যা তাদের মানসিক চাপে ফেলে। এই সমস্যা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প ব্যবস্থা ভাবছিল এবং তারই ফল হিসেবে এবার এই বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

শুধু পরিবহন ব্যবস্থাই নয়, ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করতে আরও কিছু প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাকৃবি প্রশাসন। তৃতীয়বারের মতো চালু করা হয়েছে ‘বাউ এক্সাম হল ফাইন্ডার’ সেবা। এই ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা সহজেই নিজেদের পরীক্ষার হল খুঁজে নিতে পারবেন। স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই পরীক্ষার্থীরা হলের অবস্থান, রুট এবং দূরত্ব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।

এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত আসন বিন্যাসসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ও তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে ‘কেন্দ্রীয় হেল্প ডেস্ক’। এই হেল্প ডেস্ক থেকে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার সময়সূচি, কেন্দ্রসংক্রান্ত নির্দেশনা এবং জরুরি তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশেষ করে অ্যাডমিট কার্ড ভুলে যাওয়া, প্রিন্ট সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা অন্যান্য যান্ত্রিক সমস্যায় সহায়তা দিতে আইসিটি সেল পরিচালিত একটি আলাদা হেল্প ডেস্কও সক্রিয় থাকবে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী। তাদের মতে, ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ অনেক বেড়ে যায়। স্পেশাল বাস সার্ভিস চালুর ফলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী প্রথমবার ময়মনসিংহে আসছেন, তাদের জন্য এটি বড় স্বস্তির বিষয়।

শিক্ষাবিদদের মতে, একটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাকৃবির দায়িত্ব শুধু পরীক্ষা নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরীক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করাও এর অংশ। স্পেশাল বাস সার্ভিস, ডিজিটাল হল ফাইন্ডার এবং হেল্প ডেস্ক—এই তিনটি উদ্যোগ একসঙ্গে ভর্তি পরীক্ষাকে আরও শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শিক্ষার্থী-বান্ধব করে তুলবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, এই ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ভোগান্তি ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতার আলোকে এসব সেবা আরও উন্নত ও সম্প্রসারিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, কৃষি গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্পেশাল বাস সার্ভিস এবং সহায়ক উদ্যোগগুলো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষার দিন যেন কেবল মেধা ও প্রস্তুতির ওপরই ফলাফল নির্ভর করে, যাতায়াত বা ব্যবস্থাপনার দুর্ভোগ যেন কারও স্বপ্নের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যেই বাকৃবি প্রশাসনের এই আয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত