শরিফুল-তানভীরের তোপে বিধ্বস্ত ঢাকা, সহজ লক্ষ্য চট্টগ্রামের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৬ বার
শরিফুল-তানভীরের তোপে বিধ্বস্ত ঢাকা, সহজ লক্ষ্য চট্টগ্রামের

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) উত্তেজনাপূর্ণ আসরে সিলেটে দিনের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলারদের দাপটে রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাটিং লাইনআপ। শরিফুল ইসলামের গতি ও নিখুঁত সুইং, এরপর তানভীর ইসলাম ও শেখ মেহেদী হাসানের স্পিন জাদুতে নির্ধারিত ওভার পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হয়েছে ঢাকাকে। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের দৃঢ়তায় কোনোমতে লড়াইয়ের পুঁজি পায় দলটি। তবে সেটি যে চট্টগ্রামের জন্য খুব একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ নয়, সেটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে ঢাকার ইনিংস।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা ক্যাপিটালস ১৯.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ১২২ রান। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই রান যে জয়ের জন্য খুব একটা নিরাপদ নয়, তা বলাই বাহুল্য। বরং চট্টগ্রাম রয়্যালসের সামনে এই লক্ষ্য টপকে টেবিলে দুই ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইনিংসের শুরু থেকেই ঢাকার জন্য যেন অশনি সংকেত বয়ে আনেন শরিফুল ইসলাম। প্রথম ওভারেই তার গতিময় ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান ওপেনার সাইফ হাসান। চার বল মোকাবিলা করে মাত্র এক রান করা এই ব্যাটারের বিদায় ঢাকার ইনিংসকে শুরুতেই নড়বড়ে করে দেয়। এরপর পাওয়ারপ্লে জুড়েই ঢাকার ব্যাটারদের ওপর চাপ বজায় রাখে চট্টগ্রামের বোলিং আক্রমণ। পঞ্চম ওভারে আবার আক্রমণে এসে শরিফুল তুলে নেন আফগান ব্যাটার জুবাইদ আকবরির উইকেট। ১২ বল খেলে মাত্র দুই রান করা আকবরিও শরিফুলের নিখুঁত লাইনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।

প্রথম দিকের এই দুই ধাক্কায় ব্যাটিং ছন্দ হারায় ঢাকা। রান তুলতে গিয়ে একপ্রান্তে উইকেট পড়তে থাকায় চাপে পড়ে যান মিডল অর্ডারের ব্যাটাররাও। এরই মধ্যে আক্রমণে এসে তানভীর ইসলাম দেখান তার স্পিনের ধার। কিছুটা সাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করা উসমান খানকে ফিরিয়ে দিয়ে ঢাকার ঘুরে দাঁড়ানোর সামান্য আশাটুকুও ভেঙে দেন তিনি। ১৫ বলে তিনটি চার হাঁকিয়ে ২১ রান করা উসমান খান স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। এক্ষেত্রে কৃতিত্বের বড় অংশই প্রাপ্য ইংলিশ উইকেটকিপার অ্যাডাম রসিংটনের। দ্রুত স্টাম্পিং করে ম্যাচের মোড় আরও চট্টগ্রামের দিকে ঘুরিয়ে দেন তিনি।

এই স্টাম্পিং যেন ঢাকার ব্যাটিং ধসের সূচনা। এরপর একে একে সাজঘরে ফিরতে থাকেন শামীম হোসেন, সাব্বির রহমান ও ইমাদ ওয়াসিম। তিনজনই তানভীরের ঘূর্ণি কিংবা স্পিন সহায়তায় বিভ্রান্ত হয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন। শামীম সাত বলে চার, সাব্বির আট বলে নয় এবং ইমাদ ওয়াসিমও আট বলে নয় রান করে আউট হন। উইকেটের পেছনে রসিংটনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো ম্যাচে চারটি স্টাম্পিং করে তিনি চট্টগ্রামের বোলিং আক্রমণকে বাড়তি শক্তি জুগিয়েছেন।

ঢাকার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ মিঠুনও ফিরে যান। ১২ বলে আট রান করা মিঠুন একটি সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলে স্কোরবোর্ডে তখন ঢাকার রান মাত্র ৬৬, আর উইকেট হারিয়েছে সাতটি। এই অবস্থায় শতরান ছোঁয়াও কঠিন মনে হচ্ছিল। গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের মধ্যেও তখন হতাশার ছাপ স্পষ্ট।

এই বিপর্যয়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। একপ্রান্ত আগলে রেখে নাসির হোসেনের সঙ্গে গড়ে তোলেন ৪৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। নাসির হোসেন ২০ বলে ১৭ রান করে আউট হলেও এই জুটি ঢাকাকে লজ্জাজনক অবস্থান থেকে খানিকটা উদ্ধার করে। সাইফ উদ্দিন ছিলেন দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী। শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে চারটি চার হাঁকিয়ে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার এই ইনিংসই মূলত ঢাকাকে শতরানের গণ্ডি পেরোতে সাহায্য করে। শেষদিকে তাসকিন আহমেদ চার বলে পাঁচ রান করে আউট হলে ঢাকার ইনিংস থামে ১২২ রানে।

চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলিং পারফরম্যান্স ছিল পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত। তানভীর ইসলাম মাত্র আট রান খরচায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ঢাকার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। শরিফুল ইসলামও সমান কার্যকর ছিলেন। তিনি ১৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন, যার মধ্যে দুটি ছিল টপ অর্ডারের। শেখ মেহেদী হাসান দুটি উইকেট নিলেও খানিকটা রান খরচ করেন। তবুও মধ্য ওভারে তার নিয়ন্ত্রিত স্পেল ঢাকার ব্যাটারদের বড় শট খেলতে দেয়নি।

সব মিলিয়ে ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নামার আগে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই তাদের। অন্যদিকে ঢাকার জন্য এটি ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতার আরেকটি হতাশাজনক অধ্যায়। বিপিএলের মতো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে নিয়মিত এমন পারফরম্যান্স দলটির অবস্থানকে আরও চাপে ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, চট্টগ্রাম কতটা সহজে এই লক্ষ্য টপকে জয় নিশ্চিত করতে পারে এবং পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান কতটা মজবুত করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত