প্রার্থিতা বাতিল ও সমতা নিয়ে সিইসির সঙ্গে বসছে ইসলামী আন্দোলন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৩ বার
প্রার্থিতা বাতিল ও সমতা নিয়ে সিইসির সঙ্গে বসছে ইসলামী আন্দোলন

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থিতা বাতিল, আইনের অতিব্যবহার এবং সমতাভিত্তিক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘তুচ্ছ ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে’ ইসলামী আন্দোলনসহ স্বতন্ত্র ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান ও আপত্তি তুলে ধরতেই তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এ এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে থাকবেন আরেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদসহ মোট পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতা। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত ব্রিফ করার কথাও জানিয়েছে দলটি, যাতে আলোচনার বিষয়বস্তু ও কমিশনের অবস্থান জনসমক্ষে তুলে ধরা যায়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও আচরণ দলটির কাছে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আইনের এমন প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোর এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক ধারাকে ব্যাহত করছে। তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে ছোটখাটো কারিগরি ত্রুটি বা ব্যাখ্যার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পরিসর সংকুচিত করছে।

দলীয় নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু তাদের দল নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছেন। ফলে বিষয়টি কোনো একক দলের অভিযোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি মৌলিক প্রশ্ন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রার্থিতা বাতিল একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। অতীতে একাধিক নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্দোলন এবং নির্বাচন বর্জনের মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছে। সে অভিজ্ঞতা থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতি বাড়তি নজর দিচ্ছে। ইসলামী আন্দোলনের এই বৈঠক সেই প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না; বরং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান একাধিক আলোচনায় বলেছেন, নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিকার অর্থে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়, তাহলে সব দলের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং যৌক্তিক সমাধান বের করা জরুরি। তার মতে, কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, যে কোনো রাজনৈতিক দলের অভিযোগ শোনার বিষয়ে কমিশন নীতিগতভাবে আগ্রহী। কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে আইন ও বিধি অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো দল যদি মনে করে যে তাদের সঙ্গে অবিচার হয়েছে, তাহলে কমিশনের কাছে তা তুলে ধরার সুযোগ সবসময় উন্মুক্ত রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। অনেক প্রার্থী ও সমর্থক মনে করছেন, নির্বাচন কমিশন কঠোরতার ক্ষেত্রে এক ধরনের অসামঞ্জস্য দেখাচ্ছে। একই ধরনের ত্রুটি বা অভিযোগে কোথাও প্রার্থিতা বহাল থাকছে, আবার কোথাও বাতিল হচ্ছে—এমন অভিযোগও সামনে আসছে। দলটির নেতারা মনে করেন, এই দ্বৈত মানদণ্ড নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রার্থিতা বাতিল নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ফেসবুকসহ নানা প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ‘আইনের অতিব্যবহার’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক চাপের মধ্যে কাজ করছে। যদিও নির্বাচন কমিশন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই বৈঠক শুধু একটি দলের অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। বৈঠকে কমিশন যদি তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং অভিযোগগুলোর যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেয়, তাহলে অনেকাংশে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমতে পারে। আবার উল্টোভাবে, যদি দলগুলো সন্তুষ্ট না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা বলছেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখতে চান। তবে সেই আস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে নির্বাচন কমিশনকে আরও স্বচ্ছ, সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের মতে, নির্বাচন কোনো একটি দলের জয়ের জন্য নয়; বরং জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলনের মাধ্যম হওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, প্রার্থিতা বাতিল ও নির্বাচনী সমতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের এই উদ্যোগ আগামী দিনের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের ফলাফল কী হয়, কমিশন কী বার্তা দেয় এবং দলটি সেই বার্তাকে কীভাবে গ্রহণ করে—সেদিকেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত