গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে আক্রমণ সালাহউদ্দিনের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৬ বার
গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে আক্রমণ সালাহউদ্দিনের

প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে তীব্র ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, শেখ হাসিনা ও তার পিতা দেশে গণতন্ত্র হত্যা করেছেন, মানুষের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছেন এবং একদলীয় ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার মাধ্যমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসন কায়েম করেছিলেন, যার পরিণতিতেই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তার পতন ঘটে।

মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাদা ম্যারেজ গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে পহরচাদা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ধর্মীয় পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্রের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। তার দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দীর্ঘ পনেরো থেকে ষোলো বছর দেশ শাসন করেছে। এই সময়কালে জনগণের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা ও তার পিতা দুজনেই এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। জনগণের মতামতের কোনো মূল্য সেখানে ছিল না। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।” সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে উঠে আসে, এই শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধেই শেষ পর্যন্ত ছাত্রজনতা রাজপথে নেমে আসে এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে।

আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়েও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছেন দিল্লিতে এবং তার সরকার কার্যত ভারতের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ কখনো বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখেনি। বরং দলটি প্রতিবেশী দেশের প্রভাব ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা হয়েছে এবং বিরোধী কণ্ঠকে কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতেও এই সরকার আঘাত করেছে। তিনি আলেম সমাজের ওপর নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ তুলে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মূলত ইসলামবিদ্বেষী অবস্থান থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে।

তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে শাপলা চত্বরের ঘটনা। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাতের অন্ধকারে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালানো হয়েছিল এবং নিরীহ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হত্যা করা হয়েছিল। তার দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগ সরকার সাধারণ মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তিনি বলেন, এসব ঘটনার ফলাফল হিসেবেই আওয়ামী লীগ আজ ক্ষমতাচ্যুত এবং রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা।

তিনি বলেন, “এই দেশ কোন পথে যাবে, কেমন বাংলাদেশ হবে—সেই সিদ্ধান্ত জনগণ ইতোমধ্যেই দিয়ে দিয়েছে। মানুষ একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ দেখতে চায়।” তার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে ঘিরে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশার কথাও উঠে আসে।

অনুষ্ঠানটি ছিল মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান ও তার নেতৃত্বে বিএনপির ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। তারা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

পহরচাদা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফরিদ আহমদ আজিজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, পহরচাদা সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন হায়দার এবং উপদেষ্টা জালাল আহমদ সিকদারসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই নিজ নিজ বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতন্ত্রের সংকট এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে মত প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেন, এই ধরনের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শুধু দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরির একটি অংশ। তারা দাবি করেন, দেশের মানুষ এখন আর একনায়কতন্ত্র মেনে নিতে প্রস্তুত নয় এবং ভবিষ্যতে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য জনগণ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য চলমান রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করেছে। একদিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার শাসনকাল নিয়ে কঠোর সমালোচনা, অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিকে সামনে আনার প্রচেষ্টা—এই দুই ধারাই বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

এই বক্তব্য ও আয়োজন ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি স্পষ্ট যে, সামনে জাতীয় রাজনীতিতে গণতন্ত্র, নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্ন আরও জোরালোভাবে উঠে আসবে। সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন করে ইন্ধন জুগিয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত