প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাত দিন মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৬ শাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন বা দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এই সময়কালজুড়ে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব, পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়ন নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করে টহল ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বিজিবি ও র্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করতে পারবে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে বিশেষ দল দায়িত্বে থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ এবং মেট্রোপলিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে চারজন পুলিশ সদস্য অস্ত্রসহ নিয়োজিত থাকবেন।
গ্রাম পুলিশ বা দফাদাররা প্রতিটি কেন্দ্রে সাত দিনের জন্য এবং প্রান্তিক ভিডিপি সদস্যরা প্রশিক্ষণসহ মোট আট দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ভোটগ্রহণের দিন এবং তার আগে ও পরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। মোটরসাইকেল, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর সীমিত সময়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। পাশাপাশি ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব লাইসেন্সধারী ব্যক্তির অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনও নিষিদ্ধ থাকবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং সেল’ কার্যকর থাকবে। সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যাতে ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার এই পরিকল্পনা দেশের সব ভোটার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেবে। নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই মোতায়েন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর যৌথ তৎপরতা নির্বাচনকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সহায়ক হবে।
নির্বাচনের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সাত দিনের মোতায়েন নির্বাচনী এলাকার সব স্তরে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ভোটকেন্দ্র, আশেপাশের এলাকা এবং মূল রুটগুলোতে তৎপর মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ভোটারদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে। গ্রাম পুলিশের অংশগ্রহণ স্থানীয় জনগণ ও ভোটারদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করবে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস যোগাবে।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি কেন্দ্র ও জেলার নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এই উদ্যোগ ভোটগ্রহণকে উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশা করছে, সুষ্ঠু মোতায়েনের মাধ্যমে সকল ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন এবং নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না।