চবিতে ভর্তি পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬ বার
চবিতে ভর্তি পরীক্ষায় নকল শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষা সদ্য অনুষ্ঠিত হলেও প্রথম বর্ষের ‘বি–২’ উপ–ইউনিটে এক নকল কাণ্ড শিক্ষাজগতে বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় দুই শিক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের সময় ধরা পড়েন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং পরীক্ষার নিয়মানুযায়ী তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উক্ত দুই শিক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে ওএমআর শিট পরিবর্তনের মাধ্যমে একে অপরকে সহায়তা করার চেষ্টা করছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের ওএমআর শিট অন্যজনের হাতে ভরাট করে দেওয়া হয়েছিল। ইনভিজিলেটরের দৃষ্টি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং দুই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনায় পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং ভর্তি পরীক্ষার সঠিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

চবির প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “মূলত তারা একে অপরকে সহযোগিতা করার জন্য ওএমআর শিট পরিবর্তন করেছে। ইনভিজিলেটরের নজরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা প্রাথমিকভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তারা একই বর্ষের শিক্ষার্থী এবং একই মাদ্রাসার ছাত্র।” তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তাদের সকল কার্যক্রম মনিটর করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী রাজশাহীর আত্রাই আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহাম্মদ মুত্তালিব এবং অপরজন রাজশাহীর হাফিজুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদি তারা অন্য কোনো ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে থাকে, সেখানে তাদের কোনো সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ, দুই শিক্ষার্থীর জন্য চবিতে শিক্ষাজীবনের এ অধ্যায় বন্ধ হয়ে গেছে।

চবিতে ভর্তির পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়মিতভাবে নেয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, নকল করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শিক্ষাজগতে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। এটি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও সতর্কবার্তা যে, অসদুপায়ের জন্য কোনো ছাড় থাকবে না।

প্রক্টর বলেন, “আমরা সকল শিক্ষার্থীকে সতর্ক করতে চাই যে, ভর্তি পরীক্ষা বা অন্যান্য শৃঙ্খলাবদ্ধ কার্যক্রমে নকল বা অসদুপায় গ্রহণ করা হলে কঠোর শাস্তি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা আমাদের মূল লক্ষ্য।”

চবির ভর্তি পরীক্ষা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখানে অংশগ্রহণ করে। ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নকল বা অনিয়মের মাধ্যমে ভর্তির চেষ্টা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও শিক্ষাগত মানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই ঘটনায় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা সতর্ক হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কঠোর মনোভাব শিক্ষাজগতে সঠিক শিক্ষা ও নৈতিকতা বজায় রাখার জন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে চবিতে ভর্তি পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা করার ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষক সমাজের কঠোর নজরদারি, সতর্কতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সতর্কতা ও নৈতিক দিকনির্দেশনার গুরুত্বও বেড়ে গেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক ব্যবস্থা অনুযায়ী, বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিলে তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এতে তাদের শিক্ষাজীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।

উপসংহারে বলা যায়, চবির এই পদক্ষেপ শিক্ষাজগতে নৈতিকতার গুরুত্ব এবং ভর্তি পরীক্ষায় সততা রক্ষার অপরিসীম প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে এই ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা আরও দৃঢ় হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত