সিলেট বিভাগে প্রবাসীদের রেকর্ড ভোট নিবন্ধন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৫ বার
সিলেট প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন রেকর্ড

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সিলেট বিভাগের চার জেলায় এক লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনারি সূত্র থেকে জানা গেছে, এই বৃহৎ অংশগ্রহণ প্রবাসী ভোটারদের সচেতনতা এবং দেশের ভোটপ্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন।

নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি গত ১৮ নভেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলেছে। এই সময়ে সিলেট বিভাগের তিনটি জেলা ও একটি সদর জেলায় মোট ১ লাখ ২ হাজার ৭৩৬ জন প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৯০ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ১৬ হাজার ৪১৬ জন। এই সংখ্যাগুলি প্রমাণ করছে যে প্রবাসীরা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে একনিষ্ঠ ও উৎসাহী।

নিবন্ধনের দিক থেকে শীর্ষ স্থান দখল করেছে সিলেট জেলা। এ জেলা থেকে মোট ৪৫ হাজার ৫৮১ জন প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবী নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে ৩৮ হাজার ৪৭৭ জন পুরুষ এবং ৭ হাজার ৩২৯ জন নারী। সিলেট জেলায় বর্তমানে ২২৫ জন প্রার্থী নিবন্ধনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে ২৩ হাজার ৭৯৮ জন প্রবাসী ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এদের মধ্যে ২০ হাজার ১৮৮ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৮২ জন নারী। এখানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ৭০ জন।

হবিগঞ্জ জেলার প্রবাসীদের নিবন্ধন সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এখানে মোট ১৫ হাজার ৪১০ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন, যার মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ১৫ জন এবং নারী ২ হাজার ৩৯৫ জন। এ জেলায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ৬৮ জন। সুনামগঞ্জ জেলা থেকে মোট ১৮ হাজার ১৫৩ জন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছে, যেখানে পুরুষ ভোটার ১৫ হাজার ৭১ জন এবং নারী ৩ হাজার ৮২ জন। এখানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ৬৮ জন।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সমস্ত প্রার্থীর আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন।

প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এটি প্রমাণ করে যে দেশের নাগরিকরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে সচেষ্ট এবং দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক মজুরি ও চাকরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন, সেই সঙ্গে তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারও নিশ্চিত করছেন।

নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটাররা নির্বাচনের সময় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। এর মাধ্যমে তারা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবেন। প্রবাসী ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ দেশের ভোটাভুটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় করবে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রবাসীরা নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবেন।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আরও বলেন, প্রবাসীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক বার্তা যাবে। এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রবাসীরা দেখাতে পারছেন যে তারা দেশের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

সিলেট বিভাগের চার জেলার এই রেকর্ড প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করছে যে দেশের বাইরে থাকা প্রবাসী ভোটাররাও দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তাদের ভোটাধিকার দেশের গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিবন্ধিত প্রবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার কর্মকর্তা। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকলেও দেশের নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের আগ্রহ অটুট। এটি প্রমাণ করে যে প্রবাসীরা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক অবদান রাখেন না, বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমর্থন করেন।

নির্বাচন কমিশন আশা করছে, প্রবাসীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে এবং ভোটের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী করবে। এছাড়াও, প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ দেশের নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং গ্রহণযোগ্যতা দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত