অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থ সরকার: মির্জা ফখরুল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৩ বার
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ব্যর্থতা সরকার

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও কঠোর নজরদারির ক্ষেত্রে সরকার অক্ষমতা প্রদর্শন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

ঠাকুরগাঁও সফরে থাকা বিএনপি মহাসচিব বলেন, “দেশে চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। নির্বাচনের মুখে যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে, সেখানে জনগণ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবে না। সরকারের দায়িত্ব হল, সব ধরনের অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিহত করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তারা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বেশ কিছু দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের ব্যবহার, সন্ত্রাসী হামলা ও নিরীহ মানুষদের ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, কিন্তু তারা তাতে ব্যর্থ হচ্ছে।”

তিনি জানান, বিএনপি সব সময় শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে থাকলেও, সরকার যদি নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে কাজ করবে। তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, “নির্বাচনের সময় আপনারা সকল ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সজাগ থাকবেন। আমরা চাই, দেশের প্রতিটি ভোটার নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হোক।”

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতৃবৃন্দ। তিনি স্থানীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়গুলো নজরদারি করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করা প্রয়োজন যাতে তারা ভোট দিতে ভয় পাবেন না।

ফখরুল বলেন, “সরকার যদি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে সক্ষমতা প্রদর্শন করতে না পারে, তবে নির্বাচনী সময় সন্ত্রাস ও জবরদস্তির ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিএনপি এই বিষয়গুলোর প্রতি জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করছে এবং আমরা সবাই একসাথে নিরাপদ ভোট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপি মনে করে সরকারের উচিত ছিল, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, অবৈধ অস্ত্র ও বিপজ্জনক উপকরণ সংগ্রহ করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তা করা হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, “সরকারের এই অক্ষমতা শুধু নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করছে না, বরং দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা নষ্ট করছে। আমাদের আশা, তারা শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দল, জনগণ ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে এবং জনগণ যাতে ভয় ছাড়া ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করবে।

তিনি সংবাদিকদের বলেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। তাই বিএনপি ইতিমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা কাজ করছেন।

মির্জা ফখরুলের এই মন্তব্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সাধারণত রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে এবং সরকারের অক্ষমতা জনগণকে প্রভাবিত করতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “সরকারের ব্যর্থতা শুধু রাজনৈতিক দলের জন্যই নয়, বরং দেশের সকল নাগরিকের জন্য হুমকিস্বরূপ। অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে নির্বাচনী পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে, বিএনপি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ভোটের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত