প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিপিএল ২০২৬-এর উত্তাপের মধ্যেই রংপুর রাইডার্সের ইনিংস শেষ হলো মাত্র ১১৪ রানে। সিলেট থান্ডারদের বিপক্ষে রংপুরের ব্যাটাররা একেবারেই হার মানল। পুরো ম্যাচে কোনো ব্যাটারই ৩০ রানের বেশি করতে পারেনি। সিলেটের তরুণ বোলার নাসুম আহমেদ ছিলেন খেলায় সেরা, মাত্র ১৯ রান খরচায় তিনি তুলে নেন ৩টি উইকেট। শহিদুল ইসলাম ও মঈন আলীর সমন্বয়ে সিলেটের বোলিং আক্রমণ রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
রংপুর রাইডার্সের ইনিংস শুরু হয় পাওয়ার প্লের মধ্যে। ইতিমধ্যেই তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলতে দেখা যায় তাদের। কাইলে মেয়ার্সের চার বলের এক আক্রমণে তাওহীদ হৃদয় মাত্র ৪ রানে আউট হন। আগের ম্যাচে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি, কিন্তু আজ পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। লিটন দাসও আউট হন ২২ রানে, শহিদুল ইসলামের খামখেয়ালী বল তাকে স্টাম্প আউট করে। যদিও মাত্র ১২ বলের ইনিংসে লিটন ৪টি চারের মাধ্যমে কিছুটা উজ্জ্বল উপস্থিতি রাখেন, তাও রংপুরের ব্যাটিং লাইনকে টিকিয়ে রাখতে পারছে না।
এরপর ইফতিখার আহমেদ ও খুশদিল শাহ ৪০ রানের জুটি গড়েন। তবে এই জুটির মাধ্যমে বড় রান আসেনি। ইফতিখার মাত্র ২০ বলে ১৭ রান করে রানআউট হন, আর খুশদিল ২৪ বল খেলে ৩০ রান করে বিদায় নেন। জাতীয় দলের ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানও আউট হন ব্যর্থভাবে। জাতীয় দলে তিন ম্যাচে তার রান ৫, ১, ৫ এবং বিপিএলে পাঁচ ম্যাচে ৬, ৭*, ৩*, ৪, ১। আজ তিনি ১১ বল খেলে ৯ রানে আউট হন।
রংপুরের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের সঙ্গী করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিছুটা চেষ্টা করলেও দলের স্কোর বাড়াতে পারেননি। তিনি শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন ২৩ বল খেলে ২৯ রান করে। সিলেটের বোলার নাসুম আহমেদ শুধু শুরুর উইকেটই নেননি, তিনটি উইকেট তুলে রংপুরকে নাকাল করেন। শহিদুল ইসলাম ও মঈন আলী যথাক্রমে ৩ এবং ২টি উইকেট নেন।
এই ম্যাচে সিলেটের বোলাররা সূক্ষ্ম কৌশল ও ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। পাওয়ার প্লে থেকে শুরু করে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদেরই কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। নাসুমের স্পিন ও পেসের মিশ্রণ রংপুরের ব্যাটিং লাইনের জন্য বিষাক্ত প্রমাণিত হয়েছে। দলগতভাবে সিলেটের বোলিং আক্রমণ তাদের অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়, যার কারণে রংপুরের ব্যাটাররা নিজেদের খেলার গতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়।
রংপুরের ব্যর্থতা কেবল ব্যাটিংতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ফিল্ডিং এবং রান আউটের ক্ষেত্রে দলটি সঠিক সমন্বয় রাখতে পারেনি। ইনিংসের মাঝখানে ৪০ রানের জুটি গড়ার পরও বড় কোনো স্কোর করতে না পারার মূল কারণ ছিল চাপে থাকা এবং সময়মতো সিঙ্গেল নেওয়া ও শট নির্বাচন করতে ব্যর্থ হওয়া। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা চেষ্টা করলেও রংপুরের ইনিংস পুরোপুরি ব্যর্থ বলে বিবেচিত হয়েছে।
অন্যদিকে, সিলেটের বোলাররা পুরো ম্যাচ জুড়ে আত্মবিশ্বাস বজায় রেখেছেন। তাদের ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং আক্রমণ রংপুরের ব্যাটারদের মনে ভয় সৃষ্টি করেছে। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো ব্যাটারও বড় শট খেলতে পারেনি। ফলস্বরূপ, রংপুর গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৪ রানে।
এই জয়ে সিলেটের দল শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে এবং বিপিএল ২০২৬-এর শীর্ষ দল হিসেবে নিজেদের মর্যাদা আরও দৃঢ় করেছে। রংপুর রাইডার্সের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা এবং দলের ব্যাটিং ও ফিল্ডিং উভয় ক্ষেত্রেই পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।