চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে পিএসজির আয় ছাড়াল ২ হাজার কোটি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৮ বার
চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে পিএসজির আয় ছাড়াল ২ হাজার কোটি

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শুধু গৌরব আর ইতিহাসই গড়ে না, বদলে দেয় ক্লাবগুলোর আর্থিক বাস্তবতাও। নতুন ও সম্প্রসারিত ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত ২০২৪–২৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে সেই বাস্তবতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে তারা শুধু দীর্ঘদিনের ইউরোপীয় স্বপ্ন পূরণই করেনি, বরং উয়েফার প্রাইজমানি তালিকায় শীর্ষে উঠে ইতিহাস গড়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে এক মৌসুমেই পিএসজির আয় দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৪৪ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৬২ কোটি টাকা।

গতকাল মঙ্গলবার উয়েফা ২০২৪–২৫ মৌসুমের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আগামী মাসে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উয়েফার বার্ষিক কংগ্রেসের আগেই এই প্রতিবেদন সামনে আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, নতুন ফরম্যাটের চ্যাম্পিয়নস লিগ শুধু মাঠের লড়াই নয়, আর্থিক দিক থেকেও ইউরোপীয় ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

নতুন কাঠামোয় চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশ নেয় ৩৬টি দল। আগের মতো আলাদা গ্রুপ না করে, সবাইকে একক লিগ টেবিলে রাখা হয় এবং প্রতিটি দল আটটি করে ম্যাচ খেলে। এই পরিবর্তনের ফলে ম্যাচ সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে সম্প্রচার আয় এবং স্পনসরশিপ থেকে আসা অর্থও। এরই প্রতিফলন দেখা গেছে প্রাইজমানির অঙ্কে। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে মোট ২৪৭ কোটি ইউরো বিতরণ করা হয়েছে, যা আগের মৌসুমগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এই বিপুল অর্থের সবচেয়ে বড় অংশটাই গেছে শিরোপাজয়ী পিএসজির ঘরে। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর কাতারে থাকলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ পায়নি তারা। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে শুধু ট্রফি নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও শীর্ষে উঠে এসেছে ক্লাবটি। পিএসজির এই আয় তাদের ভবিষ্যৎ দল গঠন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ড শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

প্রাইজমানি আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইতালির ইন্টার মিলান। ফাইনালে পিএসজির কাছে হেরে রানার্সআপ হলেও উয়েফার তহবিল থেকে তারা আয় করেছে ১৩ কোটি ৬৬ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ হাজার ৯৪৭ কোটি। ইন্টারের এই আয় ইতালিয়ান ফুটবলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশ নেওয়া বাকি চারটি ইতালিয়ান দলের প্রতিটির আয়ের তুলনায় এটি অন্তত দ্বিগুণ।

নতুন ফরম্যাটের আরেকটি বড় দিক হলো, এবার অনেক বেশি দল ১০ কোটির বেশি ইউরো আয় করতে পেরেছে। ২০২৪–২৫ মৌসুমে অন্তত সাতটি দল ১০ কোটি মিলিয়ন ইউরোর বেশি প্রাইজমানি পেয়েছে। অথচ আগের মৌসুমে, যখন ৩২ দলের গ্রুপভিত্তিক ফরম্যাট চালু ছিল এবং মোট তহবিল ছিল প্রায় ২০৮ কোটি ইউরো, তখন এমন অঙ্কের আয় করতে পেরেছিল মাত্র পাঁচটি দল। অর্থাৎ ফরম্যাট পরিবর্তনের ফলে মধ্য ও শীর্ষ সারির ক্লাবগুলোর আর্থিক ব্যবধান কিছুটা হলেও কমেছে।

তবে সব দলের ভাগ্য সমান ছিল না। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডের অ্যাস্টন ভিলা একমাত্র ক্লাব, যারা ১০ কোটির কম প্রাইজমানি পেয়েছে। তাদের আয় ৮ কোটি ৩৭ লাখ ইউরো। ৪১ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরায় উয়েফা র‍্যাঙ্কিংয়ে তারা অনেকটাই পিছিয়ে ছিল, যা প্রাইজমানি বণ্টনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবুও দীর্ঘ বিরতির পর ইউরোপের সর্বোচ্চ মঞ্চে ফিরে এমন আয়কে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ভিলার সমর্থক ও সংশ্লিষ্টরা।

রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এই মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ আর্থিক দিক থেকে কিছুটা হতাশার। আর্সেনালের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ায় তারা প্রতিযোগিতা থেকে আয় করেছে ১০ কোটি ২০ লাখ ইউরোর কম, যা ২০২৪ সালে তাদের শিরোপা জয়ের মৌসুমের তুলনায় প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো কম। তবে আতালান্তার বিপক্ষে উয়েফা সুপার কাপ জেতায় রিয়াল অতিরিক্ত ৫০ লাখ ইউরো পেয়েছে, যা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছে।

ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে প্রাইজমানি আয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। রিয়াল মাদ্রিদের কাছে নকআউট প্লে-অফে বিদায় নেওয়ার পর তারা পেয়েছে ৭ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। যদিও এটি কোনো ছোট অঙ্ক নয়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে সিটির আধিপত্য বিবেচনায় নিলে এই আয় প্রত্যাশার চেয়ে কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে কম অর্থ পেয়েছে স্লোভাকিয়ার চ্যাম্পিয়ন ক্লাব স্লোভান ব্রাতিস্লাভা। লিগ পর্বে আটটি ম্যাচেই হেরে যাওয়ায় তাদের আয় ২ কোটি ২০ লাখ ইউরোরও কম। তবুও ছোট দেশের ক্লাব হিসেবে ইউরোপের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং এই পরিমাণ অর্থ আয় করাও তাদের জন্য বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ইউরোপের অন্যান্য প্রতিযোগিতার প্রাইজমানির পার্থক্যও এই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। দ্বিতীয় স্তরের ইউরোপা লিগ জিতে টটেনহাম হটস্পার পেয়েছে ৪ কোটি ১০ লাখ ইউরো, আর রানার্সআপ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পেয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। তবে এবার কোনো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ায় ইউনাইটেড এই মৌসুমে প্রাইজমানি থেকে বঞ্চিত থাকবে। তৃতীয় স্তরের কনফারেন্স লিগ জিতে চেলসি পেয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ইউরো। বর্তমানে চেলসি আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ আয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে উয়েফার নতুন চ্যাম্পিয়নস লিগ ফরম্যাট যে আর্থিকভাবে সফল, তা এই প্রতিবেদনেই পরিষ্কার। ম্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধি, সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী দর্শকসংখ্যা বাড়ার ফলে উয়েফার আয়ের পরিমাণ যেমন বেড়েছে, তেমনি ক্লাবগুলোর কোষাগারও আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। আর এই আর্থিক বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে নাম লিখিয়েছে পিএসজি। চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সঙ্গে ২ হাজার কোটির বেশি আয় তাদের ইউরোপীয় আধিপত্যের পথে এক নতুন অধ্যায় শুরু করে দিয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com