চুয়েটে কাল ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৩ বার
চুয়েটে কাল ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬। দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎকণ্ঠা। ইতিমধ্যে ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যা পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির শেষ ধাপে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে।

চুয়েট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করেন। আবেদন শেষে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাথমিক বাছাই সম্পন্ন করা হয়। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজি—এই চার বিষয়ে প্রাপ্ত মোট গ্রেড পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে একটি মেধাতালিকা তৈরি করা হয়। সেখান থেকে প্রথম ১৬ হাজার যোগ্য প্রার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে চুয়েটের পুরকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং যন্ত্রকৌশল অনুষদভুক্ত মোট ১২টি বিভাগে ভর্তির সুযোগ থাকছে। এসব বিভাগে সংরক্ষিত আসনসহ মোট আসনসংখ্যা ৯৩১টি। এর মধ্যে রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্য একটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (উপজাতি) শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ১০টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এই সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভর্তি পরীক্ষার গ্রুপ বিন্যাস অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগগুলো ও নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘ক’ গ্রুপ। অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগগুলো, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের পাশাপাশি স্থাপত্য বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত হয়েছে ‘খ’ গ্রুপ। এই বিভাজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী গ্রুপ নির্বাচন করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

এবারের ভর্তি পরীক্ষা বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপ উভয়ের জন্য গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজি বিষয়ের ওপর ৫০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ‘খ’ গ্রুপের স্থাপত্য বিভাগে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্তভাবে মুক্তহস্ত অঙ্কনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যার নম্বর ২০০। ফলে ‘খ’ গ্রুপের মোট নম্বর দাঁড়াবে ৭০০। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান ও সৃজনশীল দক্ষতা যাচাই করা হবে।

ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে চুয়েট ক্যাম্পাসে এরই মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার হল, আসন বিন্যাস, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরীক্ষার দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবক দল সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

চুয়েট কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, ভর্তি সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ড, নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং ভর্তি পরীক্ষার নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি বা ব্যক্তিগত চিঠি পাঠানো হবে না। ফলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনলাইন মাধ্যমেই নিয়মিত তথ্য জানার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইট থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নির্দেশিকা ডাউনলোড করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যেখানে ভর্তি প্রক্রিয়া, পরীক্ষার নিয়ম, ফল প্রকাশ ও ভর্তির সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ অনুযায়ী, যোগ্য প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ৬ জানুয়ারি। প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু হয়েছে ১২ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে। আগামীকাল ১৭ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে ৩১ জানুয়ারি মেধাতালিকা বা পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর মেধাক্রম অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো শিক্ষার্থী চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছেন। অনেক অভিভাবকও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে এসেছেন। ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় পরীক্ষার্থীদের জন্য আবাসন, যাতায়াত ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠন সহযোগিতা করছে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, আবার অনেকের চোখে মুখে উৎকণ্ঠা ও স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা।

শিক্ষাবিদদের মতে, চুয়েটের মতো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কেবল একটি একাডেমিক মূল্যায়ন নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্নের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সীমিত আসনের বিপরীতে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করায় প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন। তবে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃত মেধাবীরাই সুযোগ পাবে, যা দেশের প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

সব মিলিয়ে, আগামীকালের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে চুয়েটে এক উৎসবমুখর অথচ শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন—সবার প্রত্যাশা একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নির্ভুল পরীক্ষা আয়োজন। এই পরীক্ষার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের প্রকৌশলী ও স্থপতিদের এক নতুন প্রজন্ম, যারা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত