গোটা জাতির আলোর দিশারী ছিলেন বেগম জিয়া: রিজভী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭১ বার
বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রাম

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, গোটা জাতির কাছে আলোর দিশারী হিসেবে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার আপোসহীন মনোভাব এবং ন্যায়ের জন্য সংগ্রামই তাকে নানা সময়ে কারাগারে পৌঁছে দিয়েছে। রিজভীর এই মন্তব্য আসে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিচারপতির শাহাবুদ্দিন পার্কে অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে।

এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ফোরাম, এবং এটি চলবে আরও দুই দিন। প্রদর্শনীতে খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রাম এবং রাজনীতিতে তার অবদানের বিভিন্ন মুহূর্ত স্থিরচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। রিজভী আহমেদ বলেন, “খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রাম একটি বিশাল ক্যানভাস। তার কর্মজীবন বিশাল বৈপ্লবিক। যারা তার জীবন অধ্যয়ন করবে, তারা মুগ্ধ হবেন। এই রকম স্থিরচিত্র অনুষ্ঠান জাতিকে প্রেরণা দিবে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ করা সহজ নয়। তিনি গোটা জাতি ও দেশকে আগলিয়ে রেখেছিলেন। তরুণ সমাজকে এই চিত্র তুলে ধরে জানিয়ে দিতে হবে বেগম জিয়া কেমন ছিলেন।”

রিজভী আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম জিয়ার অবস্থান ছিল সুনির্দিষ্ট এবং ন্যায়পরায়ণ। তিনি দেশের স্বার্থ এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় আপোষ করেননি। সেই কারণে কখনো কখনো তাকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক চাপে পড়তে হয়েছে, যা তাকে বিভিন্ন সময়ে কারাগারে নিতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, “সরকারি ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছিল নতজানু আওয়ামী সরকার। কিন্তু বেগম জিয়া দেশবিরোধী কোনো চুক্তি করেননি। এই কারণেই তাকে নানা নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে।”

প্রদর্শনীতে উপস্থিত শিল্পকর্ম এবং স্থিরচিত্রগুলো খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রামী মনোভাব এবং অসাম্প্রদায়িক নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। প্রতিটি স্থিরচিত্রে দেখা যায় কীভাবে তিনি দেশের মানুষকে ন্যায় ও স্বাধীনতার পথে পরিচালনা করেছেন। রিজভী বলেন, “তরুণরা এই প্রদর্শনী দেখে জানতে পারবে বেগম জিয়ার নেতৃত্বের মূল্য, সাহসিকতা এবং দেশপ্রেম কেমন ছিল। এটি শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রেরণার উৎস।”

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিক দিক থেকেও অসাধারণ। তার নেতৃত্বে জনগণকে সংহতি, সাহস ও ধৈর্যের শিক্ষা মিলেছে। প্রতিটি দুঃসময়ে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশের উন্নয়ন ও স্বাধীনতা রক্ষায় কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী তাই শুধু শিল্পকর্ম নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও সংগ্রামের এক অমর দিকচিত্র।

রিজভী আহমেদ বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে বোঝাতে হবে যে বেগম জিয়া ছিলেন শুধু রাজনৈতিক নেত্রীই নয়, একজন মানুষ যিনি দেশের জন্য নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন। তিনি কারো কাছে আপোস করেননি, ন্যায় ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তার এই অদম্য মনোভাব এবং আত্মত্যাগের গল্প প্রতিটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ফোরামের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রদর্শনীতে যে স্থিরচিত্রগুলো স্থান পেয়েছে, তা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের নানা মুহূর্ত তুলে ধরেছে। এটি শুধুমাত্র বিএনপি সমর্থক বা রাজনৈতিক নেতাদের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য প্রেরণার উৎস।

রিজভী বলেন, “দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম জিয়ার অবদান যে শুধু স্বীকৃত নয়, তা প্রতিটি প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের দায়িত্ব এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে তা তরুণ সমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তিনি শুধু দলের নেতা নয়, গোটা জাতির আলোর দিশারী ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন এবং রাজনৈতিক সংগ্রাম ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেই দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বর্তমান প্রজন্মকে ন্যায়, সাহসিকতা এবং দেশপ্রেমের পথে এগিয়ে যেতে হবে। প্রদর্শনীটি তাই কেবল শিল্প ও ইতিহাসের সংমিশ্রণ নয়, বরং জাতিকে প্রেরণার এক শক্তিশালী মাধ্যম।

রিজভীর এই বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই প্রশংসা ও সমর্থন জাগিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রামের চিত্রণ তরুণ সমাজকে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ, ন্যায়পরায়ণতা ও আপোষহীন মনোভাব শেখাবে। তার জীবন থেকে শিক্ষার আলো গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে সৎ ও নির্ভীক নেতৃত্ব তৈরি সম্ভব হবে।

প্রদর্শনী চলবে আরও দুই দিন এবং এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষরা খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন ও রাজনৈতিক পথচলা আরও কাছ থেকে দেখতে পাবেন। রিজভী আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই প্রদর্শনী দেশের মানুষকে একত্রিত করবে, ইতিহাসের শিক্ষা শেখাবে এবং ভবিষ্যতের প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত