উত্তরবঙ্গ দিয়ে নির্বাচনী সফর শুরু করছেন জামায়াত আমির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
উত্তরবঙ্গ দিয়ে নির্বাচনী সফর শুরু করছেন জামায়াত আমির

প্রকাশ: ১৭  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরই অংশ হিসেবে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ‘নির্বাচনী সফর’ শুরু করতে যাচ্ছেন। রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগ ও জনসভার মাধ্যমে এই সফরের সূচনা হবে। এরপর পরদিন থেকেই তিনি উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ধারাবাহিক জনসভা ও কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে এটিকে দলীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতে ইসলামী জানায়, আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগ ও জনসভার মধ্য দিয়ে জামায়াত আমির তাঁর নির্বাচনী সফর শুরু করবেন। ওই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন শফিকুর রহমান। রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনে এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনী রাজনীতিতে দলের সক্রিয় উপস্থিতির বার্তা দিতে চায় জামায়াত।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর দেশের রাজনৈতিক মাঠে প্রকাশ্য কর্মসূচির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত নেতৃত্ব তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে চাঙা করতে চাইছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরতেই এই সফরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনী সফরের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং তাদের মতামত শোনা হবে।

ঢাকা পর্ব শেষ করে পরদিন ২৩ জানুয়ারি জামায়াতের আমির উত্তরবঙ্গ সফরে যাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই দিন বেলা ২টায় দিনাজপুর জেলা জামায়াতের উদ্যোগে স্থানীয় গোর-ই-শহীদ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন। দিনাজপুর জামায়াতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে বড় পরিসরে জনসভার আয়োজনের মাধ্যমে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

একই দিন বিকেল ৪টায় তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত জনসভায় অংশ নেবেন। ঠাকুরগাঁও জেলা দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। জামায়াতের নেতারা মনে করছেন, এই এলাকায় জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করা সম্ভব হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের জনসভা শেষে সন্ধ্যায় বিভাগীয় শহর রংপুরে আরেকটি বড় জনসভায় বক্তব্য দেবেন জামায়াতের আমির।

রংপুর বিভাগ জামায়াতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক ছিল জামায়াতের। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই সমর্থন কতটা পুনরুদ্ধার করা যায়, তা যাচাই করতেই রংপুরের জনসভাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। দলীয় নেতাদের ভাষ্য, এই জনসভায় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন রূপরেখা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে জামায়াতের ভাবনা তুলে ধরবেন শফিকুর রহমান।

২৪ জানুয়ারি সফরের দ্বিতীয় দিনে মানবিক ও আবেগঘন একটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন জামায়াতের আমির। ওই দিন সকালে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতি ধারণ করার বার্তা দেওয়া হবে। জামায়াত নেতারা মনে করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতার প্রতীক।

কবর জিয়ারত শেষে সকাল ১০টায় গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন জামায়াতের আমির। গাইবান্ধা অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সংগঠনকে সক্রিয় করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই জনসভাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে জামায়াত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াতের এই নির্বাচনী সফর নিছক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিসরে থাকা দলটি এখন পরিবর্তিত বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। ঢাকা থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত ধারাবাহিক সফরের মাধ্যমে জামায়াত নেতৃত্ব মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার বার্তা দিতে চাইছে।

এদিকে দলটির ভেতরেও এই সফরকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা গেছে। বিভিন্ন জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের জনসভায় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক বৈঠক ও প্রস্তুতি সভা চলছে। স্থানীয় নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।

জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনী সফরের প্রতিটি জনসভায় তারা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসন, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিষয়ে জোর দেবেন। একই সঙ্গে জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান ও নৈতিক রাজনীতির প্রসঙ্গও গুরুত্ব পাবে।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সফর নিয়ে কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর বড় পরিসরে রাজনৈতিক জনসভা হওয়ায় তারা সরাসরি নেতাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ পাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী সফর দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে দলটি কতটা সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের মূল আলোচ্য বিষয়। আসন্ন দিনগুলোতে এই সফর দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত