প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া এমন এক নাম, যা কেবল ক্ষমতার কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গণতন্ত্র, সহনশীলতা এবং মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চারিত হয়ে আসছে। প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি যে এক উদার রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করেছিলেন, সে কথাই আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কখনোই প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি, বরং তিনি ছিলেন রাজনৈতিক সংজ্ঞার অনেক ঊর্ধ্বে এক রাষ্ট্রনায়কসুলভ ব্যক্তিত্ব।
বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা ও আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শোকসভা ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় নিবেদিত। জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আলোচনায় উঠে আসে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, তার নেতৃত্বের ধরন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তার অবদান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মঈন খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিকে কখনো সংকীর্ণ প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি। তার মতে, খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি চিন্তা, কাজ, দক্ষতা এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে নিজেকে রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায় উন্নীত করেছিলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া কখনো কাউকে দমিয়ে রাখেননি বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সিদ্ধান্ত নেননি। এই বৈশিষ্ট্যই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
ড. মঈন খান তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি যখন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তখন খালেদা জিয়া তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। এক দিনের জন্যও তার কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হয়নি। এমনকি কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়নি। তার ভাষায়, একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি কখনো বলেননি যে, এই কাজটি করতেই হবে বা ওই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই স্বাধীনতার পরিবেশই প্রমাণ করে, তিনি কতটা গণতান্ত্রিক মানসিকতার অধিকারী ছিলেন।
পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ড. মঈন খান আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন প্রধানমন্ত্রী, যিনি মন্ত্রিত্ব দিতে যেমন পারতেন, তেমনি প্রয়োজনে তা ফিরিয়েও নিতে পারতেন। অথচ সেই ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী একবার একজন সচিবকে তার মন্ত্রণালয়ে নেওয়ার আগে তার মতামত জানতে চেয়েছিলেন। এই ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটাই ছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ধরন। তিনি সব মন্ত্রণালয়কে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের গুণাবলি শুধু রাজনৈতিক দক্ষতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তার চেয়েও বড় ছিল তার মাতৃত্বসুলভ আচরণ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মাঝে এমন এক মানবিক স্নেহ ছিল, যা নেতা ও কর্মীদের মধ্যে গভীর আস্থার সম্পর্ক তৈরি করেছিল। আলালের মতে, যত দিন বাংলাদেশের মানচিত্র থাকবে, তত দিন খালেদা জিয়া মানুষের স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকবেন।
শোকসভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম। তিনি তার বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার লড়াকু ও সংগ্রামী জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন একজন নেতা, যিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার থেকে সরে আসেননি। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রামে ভরপুর, কিন্তু সেই সংগ্রামে কখনোই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার স্থান পায়নি।
অধ্যাপক মাসুম আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংসদীয় ব্যবস্থার দৃঢ়তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ইতিহাস একদিন নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করলে খালেদা জিয়াকে একজন সাহসী ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেই চিহ্নিত করবে।
আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই শোকসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাহসিকতা এবং মানবিক গুণাবলির নানা দিক তুলে ধরেন।
শোকসভায় উপস্থিত বক্তারা একমত প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সময়ে যখন রাজনীতি প্রতিহিংসা ও বিভাজনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, তখন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগায়। তার রাজনীতি ছিল সহনশীলতা, সহমর্মিতা এবং মতের ভিন্নতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই মূল্যবোধগুলোই একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে তোলে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল এক ধরনের নীরব আবেগ, যা তার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এই শোকসভা যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেতা নন, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এই প্রতিবেদনটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত তথ্য, আন্তর্জাতিক ও দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটি পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হলো, যাতে তারা একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও মানবিক নেতৃত্ব সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারেন।