ফখরুল: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিএনপির অঙ্গীকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৫ বার
ফখরুল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শপথ

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সোমবার ১৯ জানুয়ারি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে নির্বাচনের ঘোষণা এসেছে এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছেন। সেই সূত্র ধরেই ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির বাংলাদেশকে পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্রকে নতুন করে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার শপথ নিয়েছে বিএনপি।

ফখরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের নাম সর্বদা স্মরণীয়। তিনি দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং তলাবিহীন ঝুড়ির মতো অর্থনীতিকে একটি সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করেছিলেন। তার এই অবদানকে উদ্দীপনা হিসেবে নিয়ে বিএনপি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

নির্বাচন সংক্রান্ত প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় কিছু সমস্যা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, “মনোনয়নপত্র বাছাই হওয়ার সময় কিছু সমস্যা দেখা দেয়, এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে মোটামুটি যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করতে দেখেছি। আমাদের যেসব সমস্যা আছে, তা গতকাল আমরা কমিশনের কাছে তুলে ধরেছি। আমরা বিশ্বাস করি, কমিশন যথাযথভাবে নির্বাচন পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।”

ফখরুল আরও বলেন, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি দায়িত্বও বটে। তিনি জানান, বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে, স্বাধীন ন্যায়বিচার, শক্তিশালী সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে।

ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি জটিল পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা নতুন করে দেশের অর্থনীতি গড়ে তুলব, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং যুব সমাজে নতুন সুযোগ তৈরি হয়। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, মানবসম্পদ এবং প্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোগকে সংহত করে একটি স্বচ্ছ, সমৃদ্ধ ও ইনক্লুসিভ অর্থনীতি আমরা গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি এই আশ্বাস দেন যে, বিএনপি সবসময় জনগণের ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং স্বাধীনতার চেতনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সেই কারণেই বিএনপি নির্বাচনকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সব পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য করার জন্য কাজ করছে।

ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, জাতির পিতাদের স্বপ্ন অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে মৌলিক অধিকার রক্ষিত থাকবে। সাংবাদিকদের তিনি জানান, “আমরা প্রতিটি কর্মসূচিতে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেব এবং একটি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকব।”

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও নেতাদের আদর্শকে স্মরণ করে বিএনপি নতুন প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও দায়িত্বশীল করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, “আমরা গণতন্ত্রকে শুধু রক্ষা করব না, বরং এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও শক্তিশালী রূপ দেব, যাতে দেশের সকল নাগরিক ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ পায়।”

মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য রাজনৈতিক সমালোচক এবং বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনের পূর্ববর্তী এই ধরনের অঙ্গীকার রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, তবে এটি একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবেও ধরা যেতে পারে।

ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বিএনপি দেশের মানুষের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রাখবে। তিনি বলেন, “আমরা নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলব, যা ভবিষ্যতে দেশের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হবে।”

সংক্ষেপে, বিএনপি মহাসচিবের এই শপথ এবং অঙ্গীকার দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং যুব সমাজের ক্ষমতায়নকে তার দলীয় কর্মকাণ্ডের মূল অঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত