প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউদ্যানে তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এই আয়োজনের নেতৃত্ব দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ নেতা এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী। অনুষ্ঠান শেষে জিয়ার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আমরা এখন পর্যন্ত ইসিকে দেখেছি যে তারা মোটামুটি যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে। আমাদের যেসব বিষয়ে সমস্যা মনে হয়েছে, তা আমরা সম্প্রতি ইসির কাছে তুলে ধরেছি এবং আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও যোগ্যতার সঙ্গে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।”
দলের কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন, “মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় কিছু সমস্যা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে আমরা আশা করি, প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার সঙ্গে সম্পন্ন হবে।”
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানটি ছিল উদযাপনের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ঐক্য এবং দলের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্নির্ধারণের একটি মুহূর্ত। মির্জা ফখরুল বলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য এক অনুপ্রেরণা। তিনি দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা, সাংবাদিক ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। আমাদের দায়িত্ব সেই আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।”
এদিন নেতাকর্মীরা জিয়ার কবরে ফুল অর্পণ করেন এবং তাঁর জীবন ও কর্মের প্রতিফলন তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। উপস্থিত নেতারা বলেন, জিয়ার নেতৃত্বে দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক দিশা পেয়েছিল এবং তাঁর নীতি ও দর্শন বিএনপির মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে আজও অটল।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “চলমান নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে শপথ নিয়েছি। ছাত্র জনতার আন্দোলন ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক। দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনঃসংগঠনের কাজ আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, জনগণের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ধাপ গ্রহণ করা হবে।”
বিএনপির এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলের নেতারা জনগণের কাছে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও সংগঠনের ঐক্য প্রদর্শন করেছেন। জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও নেতৃত্ব দলের নীতি নির্ধারণে আজও প্রভাবশালী এবং বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তা প্রতিফলিত হয়।
বিশেষভাবে, মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের কাছে আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, “মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কিছু সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি ইসি সেই সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও ন্যায্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে।”
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলের নেতারা ভবিষ্যতে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতির পুনর্গঠনে বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমানের জীবন ও আদর্শ রাজনৈতিক নেতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। দেশ ও জনগণের কল্যাণে তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য।
এদিনের অনুষ্ঠানটি শুধু রাজনৈতিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দলের নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে সংগঠিত করার এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতির প্রকাশও হিসেবে গণ্য করা হলো। দলের মহাসচিব ফখরুল বলেন, “শহীদ জিয়ার জীবন আমাদের জন্য শিক্ষা, যা রাজনৈতিক দায়িত্ব, সততা ও দেশের জন্য অবদান রাখার আদর্শকে প্রতিফলিত করে। আমরা সেই আদর্শকে সামনে রেখে দেশের জন্য কাজ করে যাব।”
বিএনপির এই কর্মসূচি রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এমন শ্রদ্ধা নিবেদন প্রতি বছরই দলের জন্য ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পালন করা হয়, যেখানে নেতাকর্মীরা দেশপ্রেম, সততা ও দায়িত্ববোধের প্রতি সম্মান জানায়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুল বলেন, “জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের দায়িত্ব সেই মূল্যবোধকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এটি শুধু শ্রদ্ধা প্রদর্শন নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের স্বীকৃতিও।”