সিরাজদিখানে রঙিন কপি চাষে সফল কৃষক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ বার
সিরাজদিখানে রঙিন কপি চাষ

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় কৃষি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন স্থানীয় কৃষক সেলিম শেখ। দীর্ঘদিনের হতাশাজনক আলু চাষের পর তিনি সাহসিকতার সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে রঙিন কপি চাষে সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁর গল্প প্রমাণ করে, পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা মিললেই ক্ষেতে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।

সেলিম শেখ আগে আলু চাষের মাধ্যমে জীবন চলাচল করলেও টানা লোকসান তাকে ভাবায় বিকল্প কোনো ফসলের দিকে নজর দেওয়ার। শুরু হয় টমেটো চাষ। ফলাফল আশাব্যঞ্জক হওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে সবজি চাষের দিকে মন দেন। সময়ের সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতা ও সাহস বেড়ে যায়, যা তাকে আধুনিক সবজি চাষের পথে নিয়ে যায়। তিনি আজ রঙিন ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি ও রেড ক্যাবেজসহ ছয় ধরনের কপি চাষ করছেন।

সেলিম শেখের ফসলের ক্ষেত্রগুলো মূলত সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে রঙিন কপি চাষ করেছেন। এর পাশাপাশি আরও ২৮০ শতাংশ জমিতে লাউ, টমেটো, খিরা, ধনিয়া পাতা, শিম, মুলা, বেগুনসহ ১৮–২০ প্রজাতির সবজি উৎপাদন করছেন। আবহাওয়ার সহায়তায় এই মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মনে সন্তুষ্টি রয়েছে।

রঙিন কপির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বাজারমূল্য। সেলিম শেখ জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি পিস রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি তিনি ৭০–৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন, যা সাধারণ কপির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। পুষ্টিগুণ বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। তাঁর ভাষায়, খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভ অনেক বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে বড় পরিসরে রঙিন সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি সহায়তায় এ বছর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে ব্রকলি চাষ করেন। ফলন ও বাজারদর ভালো হওয়ায় আগামী মৌসুমে ব্রকলি চাষের পরিধি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে তিনি নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, বীজ নির্বাচন, রোগবালাই দমনসহ সার্বিক সহায়তা পাচ্ছেন।

সেলিম শেখের গল্প শুধু অর্থনৈতিক সফলতার নয়, বরং নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তা গ্রামীণ কৃষিকে কীভাবে আধুনিক ও লাভজনক করা যায় তার একটি দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, “প্রথমে টমেটো চাষ করতাম, সফলতার পর ধীরে ধীরে ফুলকপি, ব্রকলি ও বাঁধাকপির দিকে ঝুঁকেছি। নতুন পদ্ধতি এবং শ্রমের সঠিক ব্যবহার মিললেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।”

তাঁর মতো উদ্ভাবনী চিন্তার কৃষকের কারণে সিরাজদিখান ও আশেপাশের এলাকায় নতুন ধরনের সবজি চাষের উদ্দীপনা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে রঙিন কপির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতারা আগ্রহী এবং ব্যবসায়ীরা লাভবান। কৃষকরা দেখছেন, পরিশ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণেই তারা লাভজনক ফসল উৎপাদন করতে পারছেন।

সেলিম শেখ আরও বলেন, “কৃষি শুধুমাত্র জীবনধারার উপায় নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্র। সঠিক পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মিললেই গ্রামের মানুষও স্বাবলম্বী হতে পারে।” তাঁর এই উদাহরণ স্থানীয় যুবক ও কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করছে।

সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা জানান, সেলিম শেখের মতো উদ্ভাবনী কৃষকরা নতুন ধরনের সবজি চাষে কৃষি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ ও সার প্রদানের মাধ্যমে এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সমর্থন করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশব্যাপী সবজি চাষে নতুন প্রজাতি ও প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষির সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। সিরাজদিখান অঞ্চলের কৃষক সেলিম শেখের উদাহরণ প্রমাণ করছে, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে ক্ষেতে সফলতা ও লাভ দুটোই নিশ্চিত করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত