প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশকে আধুনিক ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী পলিসি সামিটে অংশগ্রহণকালে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এ বার্তা দেন। তিনি বলেন, দেশ-বিদেশে জামায়াত বিরোধী নানা প্রপাগাণ্ডা রুখতে দল যুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।
মো. তাহের সামিটের উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়সংগত এবং সুশাসিত সমাজ গঠন। আমরা চাই এমন একটি দেশ যেখানে নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হবে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা পাবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াত সব ধরনের প্রপাগাণ্ডার মোকাবিলায় যুক্তি ও তথ্যের গুরুত্ব বোঝে এবং সেই ভিত্তিতেই দলের কার্যক্রম এগিয়ে চলবে।
তিনি বলেন, আজকের দিনে সুশাসন এবং সমাজ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা কখনো কমে যায়নি। মূল বিষয় হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য শুধুমাত্র ভালো মানুষ নয়, দক্ষ ও যোগ্য জনবল প্রয়োজন। এমনকি সমাজে প্রতিটি স্তরে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব থাকা জরুরি। তিনি বলেন, “দূর্নীতি হলো আমাদের সমাজের প্রধান বাধা। তাই জামায়াতের অগ্রাধিকার হলো এমন একটি সমাজ তৈরি করা যা দুর্নীতিমুক্ত হবে এবং যেখানে শাসনব্যবস্থা জবাবদিহিমূলক হবে।”
মো. তাহের বলেন, সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করাও সুশাসনের অপরিহার্য অংশ। সামাজিক দারিদ্র্য কমানোর মাধ্যমে মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, শিক্ষা ও সহায়তা লাভ করবে এবং নৈতিক ভিত্তিতে গড়ে উঠবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা চাই একটি সমাজ যেখানে মানুষ শুধু নিজের জন্য নয়, বরং পরোপকারের চিন্তা নিয়ে কাজ করবে। এভাবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে দেশকে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত করা। সমাজের সব স্তরের মানুষ, নারী ও পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ, সকল পেশার মানুষ যেন সমানভাবে সুযোগ পায়, সেটিই তাদের উদ্দেশ্য। তিনি জানান, দল চায় নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে।
সামিটে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এবং গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গঠনে দেশবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের স্বার্থে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, এবং আমাদের সকল প্রচেষ্টা দেশকে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
সামিটে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী এবং জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি ছিল সুশাসন, সামাজিক ন্যায়, দারিদ্র্য বিমোচন, নাগরিক অধিকার এবং দেশের উন্নয়নের নানা দিক আলোচনার মঞ্চ। বিভিন্ন সেশনে দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নতুন প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
মো. তাহের বলেন, সুশাসনের জন্য একটি কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটি এমন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভব যেখানে সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষা হবে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। জামায়াত বিশ্বাস করে যে, শিক্ষিত, সতর্ক, দেশপ্রেমিক ও নৈতিক মানুষ গঠন করাই দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
তিনি আরও যোগ করেন, সমাজের সকল স্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং নৈতিক মূল্যবোধ সমানভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু রাজনৈতিক অর্জন নয়, সামাজিক ও নৈতিক অগ্রগতি ছাড়া কোনো দেশের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা হবে, সমাজে দারিদ্র্য থাকবে না এবং মানুষের সৃজনশীলতা ও যোগ্যতা বিকশিত হবে।”
মো. তাহের বলেন, আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি দায়িত্বশীল ও নৈতিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে মানুষের মাঝে আন্তরিকতা, সততা এবং পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত এই মূল্যবোধকে প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক দায়িত্ব পালন ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে স্বচ্ছ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষা, শ্রম এবং সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, “যদি আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা একটি ভালো সরকার, ভালো সমাজ, ভালো মানুষ এবং একটি ভালো দেশ পাব।”
সামিটে আলোচিত বিভিন্ন বিষয় ছিল দেশের অর্থনীতি, যুব সমাজের উন্নয়ন, নারী অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, দুর্নীতি নিরোধ এবং নাগরিক সচেতনতা। এতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সেশনে নিজেদের মতামত প্রদান করেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে উদ্ভাবনী পরিকল্পনা ও সমাধান প্রস্তাব করেন।
মো. তাহের উল্লেখ করেন, জামায়াতের কাজ শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা চাই সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়, সততা এবং নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক। সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা—এই সবই দলের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, দল যুক্তির মাধ্যমে সকল ধরনের ভুল তথ্য ও প্রপাগাণ্ডার মোকাবিলা করবে। বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ সমালোচনার মুখে দল যুক্তি ও নৈতিকতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে। এটি দেশের মানুষের কাছে দলকে স্বচ্ছ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল হিসেবে পরিচিত করবে।
সার্বিকভাবে, জামায়াতের পলিসি সামিটে দেশের সুশাসন, সমাজ সংস্কার, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। মো. তাহের এবং জামায়াতের নেতৃত্ব মনে করেন, যুক্তি, সততা, দক্ষতা এবং নৈতিকতা—এই চারটি উপাদান কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারলেই দেশকে সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও ন্যায়সংগত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা সম্ভব।