মাদারীপুরে যৌথ অভিযানে ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার
মাদারীপুরে যৌথ অভিযানে ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মাদারীপুরে মাদকবিরোধী এক যৌথ অভিযানে তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করে সাত হাজার ৪১ পিস ইয়াবাসহ নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানটি সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার চরমুগরিয়ার চরখাগদী এলাকায় সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয়দের মধ্যে অভিযান ও মাদক কারবারির গ্রেফতারের সংবাদে স্বস্তি বিরাজ করছে, তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক ব্যবসার কারণে মানুষের জীবনে ভয়ের ছাপ এখনো আছে।

যৌথ অভিযানে সেনাবাহিনীর মাদারীপুর ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন শাফিন সরোয়ার ও লেফটেন্যান্ট রাশেদ নেতৃত্ব দেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান এবং সদর মডেল থানা পুলিশ। অভিযানটি মূলত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিত হয়। অভিযান শুরু হতেই আকতার তালুকদারের বসতঘর ঘেরাও করা হয় এবং সাড়ে তিন ঘণ্টার তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, একটি ক্রেডিট কার্ড ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন: মাদারীপুর পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের চরমুগরিয়ার চরখাগদী এলাকার মৃত মোশাররফ তালুকদারের ছেলে মো. আকতার (৪৭) তালুকদার, একই এলাকার মৃত মোদারেস খানের ছেলে মো. সোহাগ খান (২৭) এবং মৃত মান্নান বেপারীর ছেলে মো. ইমন বেপারী (২৯)। অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আকতার তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।

আটককৃতদের বাড়ি, আলমারি এবং ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ৭ হাজার ৪১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও নগদ ৩ লাখ ২ হাজার ৮০ টাকা, ১০টি মোবাইল ফোন, একটি ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ও মানিব্যাগ জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় মাদক সেবনের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়। যৌথ বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান মাদক কারবারিদের জন্য এক শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং মাদারীপুরের মানুষ আরও নিরাপদ বোধ করবে।

অভিযান শেষে ক্যাপ্টেন শাফিন সরোয়ার সাংবাদিকদের জানান, “এ ধরনের অভিযান জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টার অংশ। আমরা সচেতনভাবে মাদক ব্যবসার মূল উৎসগুলোর দিকে নজর রাখছি। মাদারীপুরে মাদকদ্রব্যের অবাধ সঞ্চালন এবং তা বিক্রির বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। তবে আমরা এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে থাকতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চরমুগরিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক বিক্রির কারণে সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে এলাকার যুবক ও কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্তির হার বেড়েছে। তারা আশা করছেন, অভিযানের মাধ্যমে মাদক চক্রে আঘাত লাগবে এবং তরুণরা বিপথগামী হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানায়, অভিযানের আগে আকতার তালুকদারের বাড়িতে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের গোপন ক্রয়-বিক্রয় চলে। ট্রলারে বা ছোট যানবাহনে ইয়াবা ও নগদ অর্থ লুকিয়ে আনা হতো। গ্রেফতারের মাধ্যমে এই চক্রের কার্যক্রম কিছুটা হলেও বন্ধ হবে বলে তারা মনে করছেন।

মাদকবিরোধী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদারীপুরের মতো জেলা শহরে এই ধরনের যৌথ অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু অবৈধ মাদক সরবরাহ বন্ধ করবে না, বরং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও শিক্ষা programmes গুরুত্বপূর্ণ।

মাদারীপুরের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাদক ব্যবসা শুধু আইন-শৃঙ্খলার জন্য নয়, সমগ্র সমাজের জন্য হুমকি। যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে রক্ষা করা, শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। অভিযানের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হলে শহরের সামাজিক পরিবেশ ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।

নগরবাসী এবং স্থানীয় প্রশাসন এক সঙ্গে কাজ করলে মাদারীপুরে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হবে। নাগরিকরা আশা করছেন, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার জন্য এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে। মাদক চক্রের মূলহোতাদের দমন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে এই অভিযান এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মাদারীপুরে যৌথ বাহিনী পরিচালিত এই অভিযান প্রমাণ করে, সরকারি সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণ একযোগে কাজ করলে মাদক ও অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম দমন করা সম্ভব। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুবসমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করা এ ধরনের অভিযানকে আরও প্রয়োজনীয় করে তুলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত