প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলা জেলার চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শেষে প্রতীক হাতে পেয়েছেন ২৪ জন বৈধ প্রার্থী। প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন প্রার্থীরা। একই সঙ্গে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান।
ভোলা জেলার চারটি সংসদীয় আসন—ভোলা-১ (সদর), ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান), ভোলা-৩ ও ভোলা-৪—এই চার আসনে মোট ২৪ জন প্রার্থী এবার ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের সমর্থক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধান অনুসরণ করে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়।
ভোলা-১ সদর আসনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মোট সাতজন প্রার্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে মাঠে নেমেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ পেয়েছেন ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীক। জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ‘দাড়িপাল্লা’, ইসলামী আন্দোলনের মো. ওবায়দুর রহমান পেয়েছেন ‘হাতপাখা’। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর হোসাইন পেয়েছেন ‘লাঙ্গল’, এনপিপির মিজানুর রহমান পেয়েছেন ‘আম’, ইসলামীক ফ্রন্টের মোহাম্মদ আশ্রাফ আলী পেয়েছেন ‘চেয়ার’ এবং গণঅধিকার পরিষদের আইনুর রহমান জুয়েল মিয়া পেয়েছেন ‘ট্রাক’ প্রতীক। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বেশ জমজমাট—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
ভোলা-২ আসনে ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। বিএনপির মো. হাফিজ ইব্রাহিম পেয়েছেন বহুল পরিচিত ‘ধানের শীষ’ প্রতীক। জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল করিম পেয়েছেন ‘দাড়িপাল্লা’। আমজনতার দলের মো. আলা উদ্দিন পেয়েছেন ‘প্রজাপতি’, এলডিপির মোকফার উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ‘ছাতা’, জাতীয় পার্টির এডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম রিটু পেয়েছেন ‘লাঙ্গল’ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন খন্দকার পেয়েছেন ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক। এই আসনেও দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে বেশ তীব্র।
ভোলা-৩ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম পেয়েছেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক। ইসলামী আন্দোলনের মো. মোসলেহ উদ্দীন পেয়েছেন ‘হাতপাখা’। জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দিন পেয়েছেন ‘লাঙ্গল’। গণঅধিকার পরিষদের মো. আবু তৈয়ব পেয়েছেন ‘ট্রাক’ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মুহা. নিজামুল হক পেয়েছেন ‘ফুলকপি’ প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই আসনে উন্নয়ন ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে প্রচার-প্রচারণা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভোলা-৪ আসনে ছয়জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নামছেন। বিএনপির মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন পেয়েছেন ‘ধানের শীষ’। জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ‘দাড়িপাল্লা’। আমজনতার দলের মো. জালাল উদ্দিন রুমি পেয়েছেন ‘প্রজাপতি’। জাতীয় পার্টির মো. মিজানুর রহমান পেয়েছেন ‘লাঙ্গল’। ইসলামী আন্দোলনের আবুল মোকারম মো. কামাল উদ্দীন পেয়েছেন ‘হাতপাখা’। জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রার্থী আবুল কালাম পেয়েছেন ‘সিংহ’ প্রতীক। এই আসনেও একাধিক রাজনৈতিক ধারার প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে মাঠে থাকবেন।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান সাংবাদিকদের জানান, প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কোনো প্রার্থী বা সমর্থককেই ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে।
তিনি আরও জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি বিবেচনা করে আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হবে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তাঁর ভাষায়, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটিই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
প্রতীক হাতে পেয়ে প্রার্থীদের মধ্যে বেশ উৎসাহ দেখা গেছে। অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা আজ থেকেই ভোটারদের কাছে গিয়ে নিজেদের কর্মসূচি ও অঙ্গীকার তুলে ধরবেন। গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার ও পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের পরিকল্পনা করছেন প্রার্থীরা। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনী আমেজ ধীরে ধীরে বাড়ছে।
সব মিলিয়ে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে ভোলার চারটি আসনে নির্বাচনী মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা কতটা নিশ্চিত করা যায় এবং ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি কেমন হয়। প্রশাসন বলছে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে।