জনসমুদ্রে পরিণত সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার
সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ জনসভা

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ বৃহস্পতিবার যেন এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঠে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বাড়তে থাকে জনসমাগম। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো মাঠ, এমনকি মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক, ফুটপাত, খোলা জায়গা ও ভবনের সামনেও হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অবস্থান নেন। দূর থেকে তাকালে মনে হচ্ছিল, মানুষ আর মানুষের মাথার ঢেউয়ে ঢেকে গেছে পুরো এলাকা।

সিলেট নগরী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা এই জনসভায় যোগ দেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ থেকেও বড় বড় বহর নিয়ে নেতাকর্মীরা সিলেটে আসেন। অনেকেই বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস কিংবা পিকআপে করে রাতের মধ্যেই পৌঁছে যান জনসভাস্থলে। কেউ কেউ আবার জনসভা মিস না করার দৃঢ় সংকল্পে রাত কাটিয়েছেন খোলা মাঠেই। শীত উপেক্ষা করে তাঁরা অপেক্ষা করেছেন কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের জন্য—বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এক নজর দেখার আশায়।

সকাল গড়াতেই পুরো জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে ভরে ওঠে। মাঠজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে যায় চারদিক। অনেক নেতাকর্মী পরেছেন রঙিন জার্সি ও টুপি, কারও হাতে দলীয় পতাকা, কারও কণ্ঠে স্লোগান। খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে মাঠে মিশে যাচ্ছে, আবার নতুন করে গড়ে উঠছে স্লোগানের ধ্বনি। দলীয় গান ও মাইকিংয়ের শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দীর্ঘদিন পর এমন বড় সমাবেশকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যে প্রবল উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে, তা চোখে পড়ার মতো।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনসভাস্থলে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ও আগ্রহ তুঙ্গে। সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কখন তিনি আসবেন, কখন শুরু হবে তার বক্তব্য। অনেকের কণ্ঠেই শোনা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে তারেক রহমানের বক্তব্য তারা দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখছেন।

জনসভাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের কারণে কিছু এলাকায় যান চলাচলেও সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং এটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের শক্তি প্রদর্শন এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তাঁদের ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন জমে আছে, এই জনসভা তারই বহিঃপ্রকাশ। তারা আশা করছেন, তারেক রহমানের বক্তব্য থেকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলনের রূপরেখা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাওয়া যাবে।

জনসভাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী নন, তবুও তারা এসেছেন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের কৌতূহল ও প্রত্যাশা থেকে। কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা পরিবর্তনের কথা শুনে আসছেন, এবার তারা স্পষ্ট দিকনির্দেশনা চান। আবার অনেকে বলছেন, এমন বিশাল জনসমাবেশ তাদের নতুন করে আশাবাদী করছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, জনসভাটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাইকিং করে বারবার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পানীয় জল ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ বরাবরই বড় রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য পরিচিত। তবে এবারের সমাবেশকে অনেকেই সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হিসেবে দেখছেন। জনস্রোতের ব্যাপকতা, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং আবেগ-উদ্দীপনার মাত্রা—সব মিলিয়ে এটি সিলেটের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে উঠেছে।

সবকিছু মিলিয়ে, তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ বৃহস্পতিবার কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এই জনসমাগম শুধু একটি দিনের চিত্র নয়, বরং দেশের রাজনীতিতে চলমান উত্তাপ, প্রত্যাশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন সবার দৃষ্টি জনসভা মঞ্চের দিকে—কী বার্তা দেন তারেক রহমান, কী দিকনির্দেশনা আসে এই বিশাল জনসমাবেশ থেকে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত