নির্বাচনী বার্তা নিয়ে খুলনায় জামায়াত আমিরের টানা সফর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৯ বার
নির্বাচনী বার্তা নিয়ে খুলনায় জামায়াত আমিরের টানা সফর

প্রকাশ: ২৬  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নির্বাচনী প্রচারণার পঞ্চম দিনে খুলনা বিভাগে সফর শুরু করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগে তাঁর সফরকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জনসভায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর এই সফরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষ সভাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

জামায়াত আমিরের এই সফরকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া শহর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ভোর থেকেই ছোট ছোট মিছিল, দলীয় পতাকা ও ব্যানার হাতে নেতাকর্মীদের শহরের প্রধান সড়কগুলোতে চলাচল করতে দেখা গেছে। জনসভাস্থলে আগত অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন পর তাঁরা সরাসরি দলের শীর্ষ নেতার বক্তব্য শোনার সুযোগ পাচ্ছেন। এই অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা, উন্নয়নবঞ্চনা ও মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতেই তাঁরা সভায় অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রসঙ্গের পাশাপাশি খুলনা বিভাগের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সংকট নিয়ে কথা বলতে পারেন। বিশেষ করে কৃষি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নের বিষয়গুলো তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জনসভায় অংশ নিতে আসা সাধারণ মানুষও বলছেন, তাঁরা নিজেদের এলাকার সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের কাছে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আশা করছেন।

জনসভায় আসা বিভিন্ন বয়সী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের বড় অভিযোগ—বিগত সরকারগুলো এই অঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। নদীভাঙন, কর্মসংস্থানের অভাব, শিল্পকারখানার স্বল্পতা এবং স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থার কথা তুলে ধরছেন তাঁরা। কেউ কেউ বলছেন, খুলনা বিভাগ দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল হলেও বরাবরই অবহেলিত থেকেছে। তাই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই তাঁরা জামায়াত আমিরের কাছে দাবি জানাতে চান।

ডা. শফিকুর রহমানের সফরসূচি অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার পাশাপাশি তিনি চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহসহ খুলনা বিভাগের অন্তত চারটি জেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জনসভা, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ। দলীয় সূত্র বলছে, এই সফরের মাধ্যমে জামায়াত খুলনা বিভাগে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করতে চায় এবং একই সঙ্গে ভোটারদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চায়।

নির্বাচনী মাঠে জামায়াতের এই সক্রিয়তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দলটি ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে ফেরার চেষ্টা করছে। ডা. শফিকুর রহমানের বিভাগভিত্তিক সফরকে সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, খুলনা বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সরাসরি জনসংযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দলটি নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে।

কুষ্টিয়ার জনসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে সভা সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জামায়াত আমিরের সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সফর বাড়বে। খুলনা বিভাগে জামায়াতের এই সফর অন্যান্য দলগুলোকেও মাঠে আরও সক্রিয় হতে উৎসাহিত করতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

জনসভায় অংশ নিতে আসা এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, তিনি বহু বছর ধরে নানা রাজনৈতিক নেতার প্রতিশ্রুতি শুনেছেন, কিন্তু বাস্তবে খুব বেশি পরিবর্তন দেখেননি। তাঁর আশা, এবার যারা নেতৃত্ব দিতে চান, তারা যেন শুধু কথা নয়, বাস্তব পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসেন। অন্যদিকে এক তরুণ শিক্ষার্থী বলেন, তিনি কর্মসংস্থান ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য শুনতে আগ্রহী। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবনা রয়েছে, সেটিই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, খুলনা বিভাগে ডা. শফিকুর রহমানের এই সফর শুধু একটি দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। জনসভা ও সফরসূচির মাধ্যমে তিনি কতটা মানুষের প্রত্যাশা ও দাবির প্রতিফলন ঘটাতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে এটুকু নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এই সফর খুলনা বিভাগের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে এর প্রভাব পড়তে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত