প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ। রোববার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নাছির উদ্দীন চৌধুরীর পক্ষে প্রচারণা শেষে দিরাইয়ে ফেরার সময় বিএনপির অপর একটি গ্রুপের নেতাকর্মীদের অতর্কিত হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং দিরাই ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় প্রচারণা কার্যক্রম শেষ করে আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ দিরাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত মহিউদ্দিন মিলাদ, আবু হাসান চৌধুরী সাজু, ফয়সলসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন তার ওপর আকস্মিকভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে।
হামলার সময় আজমল চৌধুরী জাবেদের চোখে মারাত্মক আঘাত লাগে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার চোখে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অংশেও জখমের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি এখনো চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনার পর দিরাই এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দলীয় একজন শীর্ষ নেতার ওপর প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় অনেকেই এটিকে দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং দলীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার ওপর আঘাত।
দিরাই ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই নাছির গ্রুপ ও পাভেল গ্রুপের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করে। আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ নিজেও এই আসনে বিএনপির একজন উল্লেখযোগ্য মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার সাংগঠনিক প্রভাব এবং প্রবাসী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি আলোচনায় ছিলেন।
তবে বিএনপি হাইকমান্ড যখন নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে সুনামগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে, তখন আজমল চৌধুরী জাবেদ দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি শুরু থেকেই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে নাছির চৌধুরীর পক্ষে মাঠে নেমে পড়েন এবং গণসংযোগ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তার এই অবস্থান অনেক নেতাকর্মীর কাছে দলীয় ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখানোর পরও একজন নেতার ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দলীয় কোন্দল ও সহিংসতার এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা নির্বাচনি পরিবেশ ও দলের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন এবং আহত জাবেদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়। তবে তা যদি সহিংসতায় রূপ নেয়, তাহলে সেটি কেবল দল নয়, সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। তারা মনে করছেন, এই ঘটনায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ জরুরি, যাতে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
উল্লেখ্য, আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ এই আসনে বিএনপির অন্যতম মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায়ও অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করলেও দেশের রাজনীতির সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা অব্যাহত ছিল। প্রবাসী বিএনপির রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে দলীয় অঙ্গনে তিনি পরিচিত মুখ।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দলীয় কোন্দল নিরসনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তারা।
এই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সংগৃহীত। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসন্ধান করে এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত বিস্তারিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিষয়বস্তুর সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। সংবাদটি পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দলীয় প্রার্থীর প্রচার শেষে ফেরার পথে একজন শীর্ষ বিএনপি নেতার ওপর হামলার ঘটনা সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দলীয় ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন স্থানীয় বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।