মা-বোনদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জামায়াত আমির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
মা-বোনদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জামায়াত আমির

প্রকাশ: ২৭  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নির্বাচনের মাঠে সহিংসতা, নারী নিপীড়ন ও রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রশ্ন তুলে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, যারা নির্বাচনে জেতার আগেই মা-বোনদের গায়ে হাত তুলছে এবং বিরোধী মত দমনে কঠোর ভূমিকা নিচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশ কতটা নিরাপদ থাকতে পারে। তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার যশোরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোট, নারীর নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তার ভাষায়, নির্বাচন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি ও মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা নির্বাচনের আগেই সহিংস আচরণ করছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমাতে মা-বোনদের ওপর হাত তুলছে, তাদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দিলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও অনিরাপদ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো মতের স্বাধীনতা ও মানুষের নিরাপত্তা, অথচ সেই জায়গায় আঘাত আসছে বলেই জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ ভোট পাস হলে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। এ কারণেই নতুন ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো হ্যাঁ ভোটের বিপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।’ তার দাবি, জনগণের সরাসরি মতামতের ভয়েই একটি গোষ্ঠী গণভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে যদি পরিবর্তনের পক্ষে সিদ্ধান্ত আসে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা ও ন্যায়ের পথ আরও সুদৃঢ় হবে।

ক্ষমতায় গেলে যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যশোর একটি ঐতিহাসিক ও সম্ভাবনাময় জনপদ। সঠিক পরিকল্পনা ও জনবান্ধব নীতির মাধ্যমে এই এলাকাকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি আশ্বস্ত করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জনতার স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না এবং ‘দাঁড়িপাল্লার মাপে’ কোনো হেরফের হবে না। তার ভাষায়, এই দেশে জনগণের রাজনীতি হবে, পরিবার কিংবা দলীয় স্বার্থের রাজনীতি নয়।

গণভোটে হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে ফ্যাসিবাদ, জবরদখল ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। তবে হ্যাঁ ভোট জয়ী না হলে সরকার গঠন করেও কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল শক্তি হিসেবে তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আরও কঠোর অবস্থান তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে—এই দ্বিচারিতা চলতে পারে না। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের আদর্শিক প্রচারণায় বাধা দেওয়ার কারও অধিকার নেই। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হলে কিংবা নারীদের লাঞ্ছিত করা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অন্যতম মজলুম দল হলো জামায়াত। তার দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতিত অবস্থায় থেকেও দলটি মানুষের পাশে ছিল এবং সামাজিক বিভিন্ন সংকটে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমন-পীড়নের মধ্যেও জামায়াত তার সাংগঠনিক শক্তি ও আদর্শিক অবস্থান ধরে রেখেছে।

বিএনপি প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি যদি দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে জামায়াত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে কেউ যদি উসকানি দিয়ে সংঘাতে জড়াতে চায়, তাহলে জামায়াতও প্রতিরোধ করবে বলে স্পষ্ট করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমাদেরকে জুজুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।’ এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল ও শক্ত অবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দেশের অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গোটা বাংলাদেশকে বিভিন্ন সিন্ডিকেট আঁকড়ে ধরেছে। ক্ষমতায় গেলে এসব সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং বেকারদের দক্ষ করে কর্মমুখী করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গণশৌচাগারের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপত্তার দুয়ার খুলে দেওয়ার কথা বলেন।

এর আগে জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ইসলামি চেতনা, জুলাইয়ের চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমন্বয়ে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায় জামায়াত। তার অভিযোগ, একটি অপশক্তি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে আবারও দুর্নীতি ও অপশাসন ফিরিয়ে আনতে গণভোটে না ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।

যশোরের এই জনসভা থেকে জামায়াত নেতাদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে। নারী নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থার প্রশ্ন সামনে এনে জামায়াত তাদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এই বক্তব্যগুলো কতটা জনমনে প্রভাব ফেলবে এবং রাজনৈতিক সমীকরণে কী পরিবর্তন আনবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত