২০ বছর পর গাজীপুরে তারেক রহমান, রাজবাড়ী মাঠে জনসমাবেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৫ বার
২০ বছর পর গাজীপুরে তারেক রহমান, রাজবাড়ী মাঠে জনসমাবেশ

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ দুই দশক পর গাজীপুরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সফরকে ঘিরে গাজীপুরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন ও উৎসাহ-উদ্দীপনা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে গাজীপুর মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর দলটির শীর্ষ নেতার সরাসরি উপস্থিতি ঘিরে গাজীপুরের রাজনীতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী উচ্ছ্বাস। ইতোমধ্যেই রাজবাড়ী মাঠকে সাজানো হয়েছে জনসভা উপযোগী করে। বিশাল মঞ্চ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুনে মাঠ ও আশপাশের এলাকা রঙিন করে তোলা হয়েছে। গাজীপুর মহানগরসহ পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দলীয় নেতাকর্মীরা সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিয়েছেন। অনেকেই একে গাজীপুর বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে দেখছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তারেক রহমানের এই জনসভা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি থেকে বঞ্চিত থাকা গাজীপুরের নেতাকর্মীরা এই সফরকে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। রাজবাড়ী মাঠজুড়ে ইতোমধ্যে স্লোগান, মিছিল আর ব্যানারে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। কর্মীদের চোখেমুখে স্পষ্ট প্রত্যাশা—এই জনসভা থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও নির্বাচনি রূপরেখা তুলে ধরবেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

গাজীপুর মহানগর ও জেলার বিএনপি নেতারা জানান, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে কয়েক দিন ধরেই দলীয় কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সভা-সমাবেশ, প্রস্তুতি বৈঠক ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জনসমাগম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, যানজট নিরসন, শৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা সরাসরি মাঠে থেকে এসব প্রস্তুতি তদারকি করছেন।

নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক আয়োজন। বিএনপি চেয়ারম্যান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে। জনসভাকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

এর আগে গত রোববার গাজীপুরের টঙ্গীতে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা হাসান উদ্দিন সরকারের বাসভবনে জনসভা উপলক্ষে একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর তারেক রহমান ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন, যা গাজীপুরবাসীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাঁর মতে, এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং গাজীপুরের রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ। জনসভায় এই ৩১ দফা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং জনগণের কাছে তা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দলীয় নেতাদের মতে, এই রোডম্যাপ বিএনপির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা ও ক্ষমতায় গেলে করণীয় কর্মসূচির একটি প্রতিফলন।

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচন সামনে রেখে এই জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলা ও মহানগরের সর্বত্র একটি রাজনৈতিক জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীরা নতুন করে সংগঠিত হচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজীপুর শিল্পনগরী ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে এর গুরুত্ব বরাবরই বেশি। এখানে বিএনপির শক্ত অবস্থান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি না থাকায় কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা ছিল। তারেক রহমানের এই সফর সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ করবে বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে এটি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রচারণাকে আরও গতিশীল করবে।

সাধারণ বিএনপি সমর্থকরাও এই সফরকে ঘিরে আশাবাদী। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন পর দলের প্রধান নেতার বক্তব্য শোনার সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে। রাজবাড়ী মাঠে জনসমুদ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন আয়োজকরা। তারা আশা করছেন, শুধু গাজীপুর নয়, আশপাশের জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ এই জনসভায় অংশ নেবেন।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ২০ বছর পর গাজীপুরে তারেক রহমানের আগমন বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জনসভা ঘিরে যে উচ্ছ্বাস, প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে বলছে—এই কর্মসূচি শুধু একটি সভা নয়, বরং গাজীপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হয়ে থাকতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত