নির্বাচনের আগেই ‘গোল’ দিয়ে দিয়েছে ইসি: নাসীরুদ্দীন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮ বার
নির্বাচনের আগেই ‘গোল’ দিয়ে দিয়েছে ইসি: নাসীরুদ্দীন

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, ভোটের দিন আসার আগেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যত ‘গোল দিয়ে দিয়েছে’। তাঁর ভাষায়, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে ন্যূনতম পরিবেশ দরকার, কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও ভূমিকার কারণে সেটি ইতোমধ্যেই ভেঙে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান কমিশন সেই আস্থা ভেঙে দিয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচন শুরুর আগেই কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে দিয়েছে—এই নির্বাচন কতটা প্রশ্নবিদ্ধ হতে যাচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন বলেন, “ইসি নির্বাচন হওয়ার আগেই গোল দিয়ে দিয়েছে। এরা কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন করবে? যাদের দায়িত্ব ছিল রেফারির, তারাই যদি আগে থেকেই পক্ষ নেয়, তাহলে মাঠে ন্যায্য খেলা কীভাবে হবে?” তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের এমন আচরণ শুধু একটি দলের নয়, পুরো জাতির জন্য উদ্বেগজনক। কারণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্ত হতে পারে না।

এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব লঙ্ঘন করে বিতর্কিত ও অযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন অনুমোদন দিয়েছে। তাঁর দাবি, ঋণখেলাপি, কালোবাজারি, জুয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এমনকি দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিরাও এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগেই কালোবাজারি, জুয়া ও ঋণখেলাপিদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। অন্তত ৫০ জন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক এবারের নির্বাচনে টিকিট পেয়েছেন। আমি মনে করি, এটি নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির উদাহরণ।”

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতে, নির্বাচন কমিশনের প্রধান কাজ হলো সংবিধান অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা এবং অযোগ্যদের নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কমিশন উল্টো পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, “ইসি যদি শুরুতেই নৈতিক অবস্থান হারায়, তাহলে ভোটের দিন মানুষ কী আশা করবে? এই কমিশনের অধীনে ভোট হলে জনগণের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শুধু একটি দল বা একটি আসনের ক্ষতি হয় না; পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাঁর ভাষায়, “নির্বাচন কমিশন কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করার জন্য নয়। তারা যদি রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।”

ঢাকা-৮ আসনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন বলেন, এই আসন ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার ভোটাররা সচেতন এবং তারা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। কিন্তু কমিশনের বর্তমান ভূমিকা সেই প্রত্যাশাকে ব্যাহত করছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ এখনই প্রশ্ন তুলছে—এই নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু হবে কি না।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যারা সংবিধান লঙ্ঘন করছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনের সদস্যরাও আইনের ঊর্ধ্বে নন। জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে তার দায় কাউকে না কাউকে নিতে হবে।”

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কমিশন বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে এবং নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে বদ্ধপরিকর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশন নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়। প্রতিটি নির্বাচন ঘিরেই কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। তবে এবারের নির্বাচনে নতুন দল ও নতুন প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে এই বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগগুলো যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাঁদের দল শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করছে না; তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায়। তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচন শুধু একটি সংসদ গঠনের লড়াই নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লড়াই। তাই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। কেউ যেন টাকার জোরে, পেশিশক্তির জোরে বা অবৈধ উপায়ে নির্বাচনে সুবিধা না পায়। কিন্তু কমিশনের সিদ্ধান্তগুলো দেখে মনে হচ্ছে, তারা এই অসম প্রতিযোগিতাকেই প্রশ্রয় দিচ্ছে।”

সবশেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। তাঁর মতে, ভোটারদের চাপ ও সচেতনতা ছাড়া নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের শক্তিতেই শেষ পর্যন্ত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করা যাবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এসব অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশন কী অবস্থান নেয় এবং ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তারা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত