নতুন স্বৈরাচার ঠেকাতে গণভোটই পথ: পঞ্চগড়ে সারজিস আলম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১১ বার
নতুন স্বৈরাচার হতে দেব না

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে নতুন করে কোনো স্বৈরাচারের উত্থান ঘটতে দেওয়া হবে না—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলির প্রার্থী সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, যারা ন্যূনতম জ্ঞান ও শিক্ষা ছাড়াই মানুষকে বিভ্রান্ত করে সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তারা মূলত নতুন করে স্বৈরাচার হতে চায়। কিন্তু এই বাংলাদেশে জনগণ আর কোনো স্বৈরশাসনের সুযোগ দেবে না।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে প্রচারণা ও উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন সারজিস আলম। এ সময় তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের দুঃখ-কষ্ট, দৈনন্দিন সমস্যার কথা শোনেন এবং আগামী দিনের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। বৈঠকে স্থানীয় নারী-পুরুষ, তরুণ ও বয়স্ক ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

প্রচারণাকালে গণভোট প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে ৭১ থাকবে না—এই থাকবে না, ওই থাকবে না—এমন কথা যারা বলে, আমরা মনে করি তাদের ন্যূনতম জ্ঞান ও শিক্ষা নেই। ইতিহাসকে বিকৃত করে ভয় দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, যারা সংস্কারের পক্ষে না থেকে জনগণকে বিভ্রান্ত করে, তারা আসলে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চায় এবং নতুন করে স্বৈরাচার কায়েমের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু জনগণের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলাদেশে সে স্বপ্ন আর বাস্তবায়ন হবে না।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নতুন বাংলাদেশের জন্ম কোনো হঠাৎ ঘটনা নয়। ‘আমাদের ভুললে চলবে না, এই নতুন বাংলাদেশটা এক হাজারেরও বেশি শহীদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত। অসংখ্য মানুষ এখানে রক্ত ঝরিয়েছে। সেই আত্মত্যাগের মূল কারণ ছিল—বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার চাচ্ছিল, পরিবর্তন চাচ্ছিল।’ সারজিস আলম বলেন, জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা আজও অটুট আছে এবং তা বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হলো কাঠামোগত সংস্কার।

জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই সংস্কারটা হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করা জরুরি।’ তার মতে, যারা এই গণভোটকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, যারা চায় না জনগণ সরাসরি মত প্রকাশ করুক, তারাই আসলে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘যারা নতুন করে স্বৈরাচার হতে চাইবে, ফ্যাসিস্ট হতে চাইবে—তারা চাইবে এই গণভোট যেন বাস্তবায়ন না হয়, গণভোট যেন না দেওয়া হয়।’

সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে এবং দেশের মানুষের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সিস্টেমের সংস্কার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কার করতে চাই, যদি জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভারসাম্য নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের কোনো বিকল্প নেই।’ তার ভাষায়, এটি কোনো দলীয় ইস্যু নয়; এটি একটি জাতীয় প্রশ্ন, যেখানে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।

প্রচারণার সময় সারজিস আলম স্থানীয় মানুষের নানা সমস্যা শোনেন—কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়া, কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা ইত্যাদি। এসব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান করাই হবে রাজনীতির মূল কাজ। তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় জোট ও শাপলা কলির রাজনীতি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ না হলে কোনো দেশই এগোতে পারে না। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। গণভোট, সংস্কার ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হবে এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে। আর সেই পথ ধরেই ১১ দলীয় জোট ও শাপলা কলি জয়যুক্ত হয়ে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’ তিনি বলেন, এই লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের একার নয়; এটি জনগণের লড়াই, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের লড়াই।

তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘নতুন স্বৈরাচার’ ঠেকানোর প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যখনই জনগণ সচেতন থেকেছে, তখনই স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। আজও সেই সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। ভয়ভীতি বা বিভ্রান্তির রাজনীতিতে পা না দিয়ে জনগণকে নিজের অধিকার নিজেকেই রক্ষা করতে হবে।

উঠান বৈঠক শেষে স্থানীয় কয়েকজন ভোটার বলেন, তারা সরাসরি একজন প্রার্থীর মুখ থেকে রাজনৈতিক অবস্থান ও পরিকল্পনা শুনতে পেরে সন্তুষ্ট। অনেকেই বলেন, সংস্কার ও গণভোটের বিষয়টি তারা আরও গভীরভাবে জানতে চান এবং এ নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। এ ধরনের উঠান বৈঠক রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে বলেও মত দেন তারা।

সব মিলিয়ে, পঞ্চগড়ের মির্জাপুর ইউনিয়নের এই প্রচারণা শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়; বরং এটি নতুন বাংলাদেশ, সংস্কার, গণভোট ও স্বৈরাচারবিরোধী রাজনীতির একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে। সারজিস আলমের বক্তব্যে যেমন ছিল অতীতের আত্মত্যাগের স্মরণ, তেমনি ছিল ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার—এই দেশে আর কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত